প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া

145
gb

অধিকাংশ নারীর জন্যই ‘মা’ হওয়া একটা অসম্ভব প্রত্যাশা, একঝাঁপি স্বপ্ন, বুকফাটা কষ্ট এরপর অনেকটুকু আনন্দের একটা জার্নি! আর এই প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া মায়েদের কমন প্রবলেম। সন্তান জন্মের পর নিজের চুলের কেয়ার-টা আসলে কিভাবে নিতে হবে এ নিয়ে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য জানা থাকলেই এই সমস্যা উতরে যাওয়া যায়।

সন্তানের জন্মের পরের ৪-৫ মাস মেঝেতে ফ্লোরে বাথরুমে নিজের শখের গোছা চুল যখন অনাদরে পড়ে থাকে। চুলগুলোর দিকে চেয়ে মাঝে মাঝে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা হয়! কিন্তু নিজেকেই নিজে অজুহাত দিয়ে দেন যে ‘এখন তো আমার শিশুর কেয়ার করার সময়, একটু এদিক সেদিক হলে কি হয়?’

তো এইসব ভেবে মাথার তিনভাগের একভাগ খালি হয়ে যাবার পর আমাদের যখন টনক নড়ে তখনো তেমন একটা দেরি হয়নি।

তখন এটা ভাবা উচিৎ ‘সন্তানটির কেয়ার নিলে নিজের যত্ন নেয়াই যাবে না এমন রুলতো নেই কোনও’! আজ থেকেই চেষ্টা করুন রিসার্চ, আগে জানার ট্রাই করুন। কেনো প্রেগনেন্সির পর হঠাৎ আমার গোছা গোছা চুল পড়ছে?

নরমাল মানুষের ডেইলি ১০০ টার মতো চুল পড়ে, এটা কমন। কিন্তু প্রেগনেন্সির সময়ে অনেক বেশি হেলদি খাওয়া-দাওয়া, সুস্থ লাইফস্টাইল মেইনটেইন করা আর হরমোনাল কারণে চুল অনেক কম পড়ে! মোটামুটি সুপারমডেল টাইপ সিল্কি শাইনি চুল থাকে এক্সপেক্টিং মম-দের!

শিশুর জন্মের পর আবার একটা বিশাল হরমোনাল চেইঞ্জ তৈরি হয় দেহে। দেহ নরমাল অবস্থায় ফিরে আসার জার্নি আর সাথে বাচ্চার কেয়ার নিতে গিয়ে নিজের রাতের ঘুম দিনের শান্তি নষ্ট হওয়া, দুই মিলে মাথা খালি হয়ে যেতে কয়েক মাসের বেশি কিন্তু লাগে না! এই সময়টাকে বলে Telogen Effluvium।

এই অবস্থায় নরমালের চেয়ে অনেক বেশি চুলের গোঁড়ার মৃত্যু হয় । প্রায় ৬০-৭০% নতুন মায়ের চুল পড়ে বেসিক্যালি এই একই কারণে।

গোছা গোছা চুল ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে এই ভয়েই আমাদের হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। কিন্তু, প্রেগনেন্সির অন্যান্য উপসর্গের মতো এই অস্বাভাবিক চুল পড়াও টেম্পোরারি। টাক আপনি হবেন না, যদি আপনি ঠিকমত রোজ নিজের কেয়ার আর চুলের কেয়ারের পেছনে একটু সময় দেন।

প্রেগনেন্সির ৩ মাস পর থেকেই বিচ্ছিরিভাবে হেয়ারফল শুরু হবার আগেই চুলের কেয়ারটা রোজ ঠিকভাবে নেয়া শুরু করা উচিত। যেটা না করাটাই মায়েদের প্রথম ভুল! কেয়ার-টা নিলে তালুটা আর ফাঁকা হত না।

আপনার বাবুর একবছর বার্থডের আগেই আমার মাথার চুল ফেরত আনতে গেলে কী কী করতে হবে সেগুলো জানাটা হচ্ছে আপনার নেক্সট রিসার্চ টপিক।

প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া রোধে নিজের কেয়ার-টা আসলে কিভাবে নিতে হবে সে ব্যাপারে প্রথমে কিছু লাইফস্টাইল টিপস রইল আপনার জন্য।

১. ব্লো ড্রাই, ফ্ল্যাট আয়রন বা এধরনের হিট স্টাইল একেবারেই নিষিদ্ধ নতুন মায়ের জন্য।

২. সারাদিন বাচ্চার কেয়ার নেয়ায় চুল বিরক্ত করে বলে দিনের পর দিন টাইট খোঁপা বেঁধে ফেলে রাখবেন না। মনে রাখবেন এসময়ই আপনার রুটগুলো উইক হয়ে যাবে। টাইট করে বাঁধা খোঁপায় এই দুর্বল চুলের গোঁড়াই আরো বেশি করে উঠে চলে আসবে। চুল খুব আলগাভাবে বেণী করে রাখতে পারেন। বাট ‘নো পনিটেইল’ আর ‘নো টাইট বান’!

৩. বাচ্চাকে ব্রেস্টফিড করাতে হবে বলে বেশি খেতে হয়। তাই বলে শুধু দিনে ২-৩ প্লেট ভাত খেয়েই দায়িত্ব শেষ ভাববেন না! শুধু ভাত-রুটি-চিনি দিয়ে কতগুলো Empty Calorie না খেয়ে একটু চিন্তা ভাবনা করে সুষম খাবার খান, যাতে প্রচুর প্রোটিন, মিনারেলস, দরকারি ভিটামিনগুলো আপনি পাবেন। শাক-সবজি, বাদাম, সিজনাল ফল যেন অবশ্যই ডায়েটে থাকে!! এর Anti-oxidant আপনার চুলের গোঁড়ার জীবনটা বাড়িয়ে দেবে।

৪. আয়রন রিচ খাবার খাওয়া খুবই জরুরি– কলিজা, দুধ, ডিম, কচু, পালং শাক বেশি বেশি খেতে হবে।

প্রেগনেন্সিতে চুল পড়া থামাতে যা করবেন:

১. চুল রোজ সকালে একবার আর রাতে একবার আঁচড়াণ।

২. সপ্তাহে ৩ বার (মানে একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে) পিওর নারিকেল তেল দিয়ে খুব ভালোভাবে স্ক্যাল্প-টা ম্যাসাজ করুন। যাতে অবহেলায় তৈরি হওয়া খুশকিগুলো আলগা হয়ে যায় আর তেলটা একদম প্রতিটা চুলের গোঁড়ায় গোঁড়ায় পৌঁছে যায়। ১৫ মিঃ ম্যাসাজ করে চুলটা উল্টে আঁচড়াণ, মানে চুলগুলো সামনে এনে ঘাড় থেকে শুরু করে কপালের দিকে চিরুনি চালান… এতে অয়েল ম্যাসাজের ব্লাড সার্কুলেশন-টা বেড়ে যায়।

৩. সারারাত নারিকেল তেলটা মাথায় রাখতে হবে। এতে চুলের গ্রোথ বাড়াবে আর গোঁড়াটা শক্তও করবে। এতে চুল পড়া যেমন কমে যাবে আস্তে আস্তে নতুন চুল গজাবে।

৪. পরদিন সকালে খুব ভালোভাবে চুলটা শ্যাম্পু করে এয়ারড্রাই করে শুকিয়ে নিন। তবে ফ্যানের নিচে চুল শুকিয়ে নিলে বেশি ভালো করবেন।

৫. ব্যস, এটুকুই… ঠিকভাবে খাওয়া, চুলে সঠিকভাবে অয়েল ম্যাসাজ আর শ্যাম্পু করা। আশা করি আবার কিছুদিনের মধ্যে চুলের আগের ঘনত্ব ফিরে পাবেন।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More