ট্রাম্প-মোদির ‘ফলপ্রসূ’ ফোনালাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুধবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

 

 

 

 

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারি আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে সহযোগিতা আরো বাড়াতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

এদিকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের জন্য লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, চুক্তির বিষয়ে দুই দেশ এখন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

জয়শঙ্কর বলেন, দ্রুত অগ্রগতির আশা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় আলোচনা কিছুটা কঠিন হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি সমঝোতা হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং দেশটির ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ধারা ৩০১-এর প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। তাই চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পর ঠিক কোন পর্যায়ে এটি চূড়ান্ত করা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

 

 

 

ধারা ৩০১-এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র অন্যায্য মনে করা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্ত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্কসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এদিকে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত মার্কিন আইনের বিষয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেসে আইনটি পাস হওয়ার পর ভারত এ উদ্বেগের কথা জানায়। এই আইনের আওতায় রাশিয়া ও দেশটির প্রধান জ্বালানি ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের সুযোগ পাবে ট্রাম্প প্রশাসন। এসব ক্রেতার মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে।

আইনটি পাস হওয়ার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারত কাজ করবে বলেও জানানো হয়। মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, এ বিষয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এসব সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও ভারতের উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত। এসব পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকার কাজ করবে বলেও জানানো হয়। এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসংক্রান্ত আইন নিয়ে ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন তিনি।  মিশ্রি জানান, নতুন আইনের প্রভাব শুধু ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিদলের কাছে ভারতের উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন