বেঁচে থাকলে আজ হয়তো টরন্টো থাকতেন ডিয়েগো জোতা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে সাক্ষী হতেন তিনিও।
কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে হচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-বেনার্দো সিলভাদের।
আজকের দিনেই স্পেনের জামোরা প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন জোতা। মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার। সতীর্থকে হারানোর দিনে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে পর্তুগাল।
রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর তাই জোতাকে ভুললেন না রোনালদোরা। ম্যাচ জয়ের পর তার জার্সি নম্বর ২১ হাতে নিয়ে পর্তুগালের সকলে একসঙ্গে ছবি তুললেন। জার্সিটা হাতে নিয়ে ছবি তোলার আগে রোনালদো গায়েও জড়িয়েছিলেন। সে সময় ‘সিআর সেভেনের’ চোখে চিকচিক করছিল জল।
সেই ভেজা চোখেই আকাশের পানে চেয়ে সতীর্থকে স্মরণ করেন তিনি।
পর্তুগালের হয়ে ৪৯ ম্যাচ খেলেছেন জোতা। করেছেন ১৪ গোল। ম্যাচে নামার আগেই সতীর্থর মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে ম্যাচ শেষে রোনালদো বলেছেন, ‘এটা ম্যাচের আগেই আমরা জানতাম। এটা সত্যিই আবেগঘন একটা মুহূর্ত ছিল।
আজ জীবনের অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয়টা নিয়ে দলের সবাই মিলে কথা বলছিলাম, এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
জোতাকে অবশ্য বিশ্বকাপের শুরু থেকেই স্মরণ করছে পর্তুগাল। অন্যরা ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করলে পর্তুগিজরা তাকে নিয়ে ২৭ দলের স্কোয়াড সাজায়। জোতা সব সময় তাদের সঙ্গে আছে জানিয়ে জয়টা তাকে উৎসর্গ করেছেন রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘আমরা জানি সে আমাদের সঙ্গেই আছে। তাকে সবচেয়ে সুন্দর উপায়ে সম্মান জানানোর জন্য আজকের এই জয়টা খুবই দরকার ছিল।’
টরন্টোয় প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার ইভান পেরিসিচের গোল পেনাল্টিতে শোধ করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দেন গঞ্জালো রামোস। এতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে তারা।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন