যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে চলতি সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে তার সঙ্গী হচ্ছেন আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় সব করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। মূলত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং একটি ভঙ্গুর ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’র মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সফর।
হোয়াইট হাউসের সূত্রমতে, ট্রাম্পের এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন ইলন মাস্ক (টেসলা), টিম কুক (অ্যাপল), কেলি অর্টবার্গ (বোয়িং), ল্যারি কাল্প (জিই অ্যারোস্পেস)।
এ ছাড়া মেটা, ব্ল্যাকরক, মাইক্রন, মাস্টারকার্ড ও ভিসার মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সফরে যোগ দিচ্ছেন। তবে বিশেষ আমন্ত্রিতদের তালিকায় নেই এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং, কারণ এবার কৃষি ও বিমান চলাচল খাতের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
এই সফরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে পারে বোয়িংয়ের সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য চুক্তি। প্রায় ৫০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ও কয়েক ডজন ওয়াইডবডি জেট কেনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
চুক্তিটি সফল হলে এটি হবে ২০১৭ সালের পর চীনের প্রথম বড় অর্ডার এবং বিমান চলাচলের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম একটি চুক্তি। বিমানের পাশাপাশি অন্যান্য প্রধান খাতগুলোতেও বড় অগ্রগতির আশা করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, চীন বিপুল পরিমাণ মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি কেনার ঘোষণা দিতে পারে। বর্তমানে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে বিশেষ খনিজ উপাদানগুলো আসে, তার সরবরাহ বজায় রাখতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সাক্ষাতের পর এটিই তাদের প্রথম বৈঠক। যদিও আগের সাক্ষাতে তারা পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ স্থগিত করতে সম্মত হয়েছিলেন, তবে সেই সমঝোতা এখনো বেশ নাজুক। চিপ রপ্তানির ক্ষেত্রে বেইজিং এখনো কিছু নিয়ন্ত্রণমূলক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, যা এই সফরে আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন