পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে কেন্দ্র করে পুনরায় যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার (৪ মে) দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলো ছাড়িয়ে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে নতুন একটি সামরিক অভিযান শুরু করেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পরপরই ইরান তার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ইরানের স্পষ্ট বার্তা—তাদের অনুমতি ছাড়া এই পথে কোনো বিদেশি জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
আমেরিকার নৌবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ৬টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করেছে। তাদের পাহারায় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী পার হতে পেরেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
এতে বন্দরে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনের একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেলের বিমা খরচ আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।
পাকিস্তান এই সংকট মেটাতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান আসেনি।
ইরান ১৪ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নাকচ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মার্কিন এই অভিযানকে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বা অচলাবস্থা বলে কটাক্ষ করেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই হামলাকে ‘ভয়াবহ উসকানি’ হিসেবে দেখছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দেশটিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। বড় জাহাজ কোম্পানিগুলো আপাতত এই পথে চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে প্রণালীটির প্রকৃত পরিস্থিতি এখনো অস্পষ্ট। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগ পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে আরো জটিল করে তুলেছে।
জিবি নিউজ24ডেস্ক//
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন