শাহ্ দিদার আলম নবেল,জিবি নিউজ প্রতিনিধি//
যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনের কাজ চলছে ঢিমেতালে। রেল লাইনের অবস্থাও জরাজীর্ণ। বর্ষায় নগরডুবে বৃষ্টি আর বানের জলে। গ্রীষ্মে নেমে যায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের এসব দুর্ভোগ যেন দেখার কেউ ছিল না। এবার এসব সমস্যার সমাধানে ত্রাতা হয়ে এসেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সফরেই সিলেটবাসীকে শুনিয়েছেন উন্নয়নের গল্প।
বিগত সরকারের আমলে অন্ধকারে থাকা মেগা প্রজেক্টগুলো বাস্তবায়ন ছাড়াও শ্বশুরবাড়ি সিলেটের উন্নয়নে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার নতুন একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে সেই আশারবাণী শুণে সিলেটবাসীও বেশ আশ্বস্থ হয়েছেন।
সিলেট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে গত শনিবার প্রথম সিলেট সফরে এসেছিলেন তিনি। সফরকালে তিনি মাজার জিয়ারত করেই অংশ নেন সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও সুরমার দুইপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ উপলক্ষে নগরভবনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে। ওই সমাবেশে তিনি সিলেটবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাঙ্খিত উন্নয়নের।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে আমি যখন সিলেট এসেছিলাম তখন বলেছিলাম, সিলেট থেকে লন্ডন যেতে ৯ থেকে সাড়ে ৯ ঘন্টা সময় লাগে। অথচ সিলেট থেকে বাইরোডে ঢাকা যেতে ১০ ঘন্টা সময় লাগে। আমি সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়নের কথা বলেছিলাম। সরকার গঠনের পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক সম্প্রসারণে ১১ স্থানে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সমস্যা ছিল সেগুলো দূর করে দিয়েছি। দ্রুত মহাসড়কের কাজ শেষ হবে।’
তারেক রহমান সড়কের পাশাপাশি সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের উন্নয়নেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এই রেল সেকশনকে ব্রডগেজ করার সিদ্ধান্ত নিলে সিলেটবাসী ডাবল লাইনের দাবি জানান। সেই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তারেক রহমান ডাবল রেল লাইন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে বিগত সরকারের আমলে নেওয়া সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দীর্ঘ জটিলতার কাটিয়ে মেগা প্রকল্পটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন ও ডাবল রেল লাইনের স্বপ্ন দেখছেন সিলেটবাসী।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা ‘বেওয়ারিশ’ আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতালটিও চালুর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে এতোদিন থেকে ফেলে রাখা শত কোটি টাকার হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হল। এর আগে সিলেট জেলা হাসপাতাল নামে নির্মিত হাসপাতালটির দায়িত্ব সরকারের কোন বিভাগই নিতে রাজি হয়নি। অভিযোগ ওঠে, কোন পরিকল্পনা ছাড়াই গণপূর্ত বিভাগকে দিয়ে হাসপাতাল ভবনটি নির্মাণ করা হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এবিষয়ে কোন কিছুই জানানো হয়নি। এছাড়া ওসমানী হাসপাতালকে ১২০০ শয্যায় উন্নিতকরনেরও আশ্বাস দিয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সিলেট নগরবাসীর বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও সুপেয় পানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফরকালে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩টি প্রধান ছড়া-খালে স্লুইস গেট স্থাপন, সুরমার দুইপাড়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও বন্যা প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরিসহ ৪৬৩৫ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য আধুনিক শোধানাগার নির্মাণেরও প্রতিশ্রুতি ছিল প্রধানমন্ত্রীর মুখে।
বাসিয়া নদীর ২৩ কিলোমিটার খনন কাজের উদ্বোধন করে যান প্রধানমন্ত্রী। এ নদীটির খনন কাজ শেষ হলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলার পরোক্ষভাবে অন্তত ৮০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। চাষাবাদ বাড়বে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন বাড়বে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর খাদ্যশষ্য। দুইপাড়ে ৫০ হাজার গাছ লাগিয়ে ঘটানো যাবে সবুজ বিপ্লব।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে সিলেটবাসীর প্রাপ্তি প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। সিলেট আসার পর থেকে ফেরা পর্যন্ত আমি তার সাথে ছিলাম। তিনি প্রকাশ্যে সমাবেশে সিলেটের উন্নয়নের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অকল্পনীয়। এর আগে সিলেট নগরীর উন্নয়নে একসাথে এতো উন্নয়নের ঘোষণা কেউ দেয়নি। এছাড়া একান্তে তিনি আমাকে আরও অনেক কথা বলে গেছেন। সবমিলিয়ে এবার সিলেটবাসীর আর উন্নয়ন নিয়ে কোন আফসোস থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই সিলেটের কাঙ্খিত উন্নয়ন সাধিত হবে।’
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন