ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ১০, পাল্টা আঘাতে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি—জেলেনস্কির

রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৭৬ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।

রবিবার (৩ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি

ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের কর্মকর্তারা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দেশটির বিভিন্ন শহরে রাশিয়া নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি  দাবি করেছেন, পাল্টা হামলায় রাশিয়ার দুটি বন্দরে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে তিনটি তেলবাহী জাহাজ, একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী যুদ্ধজাহাজ এবং একটি টহল নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে এসব জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।

জেলেনস্কির দাবি, তেলবাহী জাহাজগুলো রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ ছিল। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে এসব জাহাজ ব্যবহার করা হচ্ছিল।

 

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ২৬৯টি ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া ১৫টি স্থানে সরাসরি ১৯টি ড্রোন হামলা এবং একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়েও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, খেরসন অঞ্চলে তিনজন, ওডেসা, দোনেৎস্ক ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে দুজন করে এবং সুমি অঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ইউক্রেন তাদের ওপর অন্তত ৩৩৪টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার লেনিনগ্রাদ অঞ্চল বেশি লক্ষ্যবস্তু ছিল।

 

 

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতে একাধিক হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, এতে রাশিয়ার বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন,রাশিয়ার প্রিমোরস্ক তেল টার্মিনালের অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে একটি তেলবাহী জাহাজ ও একটি টহল নৌযানে হামলা হয়।

এ ছাড়া রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দরের প্রবেশমুখে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আরো দুটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘এই জাহাজগুলো সক্রিয়ভাবে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এখন আর হবে না।’

রাশিয়া এসব হামলার প্রভাব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করলেও ইউক্রেনের ড্রোন হামলা নিয়ে ক্রেমলিন উদ্বিগ্ন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার  ক্রেমলিন জানিয়েছিল, ইউক্রেনের ‘সন্ত্রাসী হুমকির’ কারণে ৯ মে রাশিয়ার বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজ সীমিত করা হবে।

উল্লেখ্য চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ইউক্রেন বলছে, তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন