‘ভারতরত্ন’ প্রত্যাখ্যান ভূপেন হাজারীকার পরিবারের

44

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের প্রতিবাদে ভারতরত্ন নিতে অস্বীকার করেছে বিখ্যাত গায়ক ভূপেন হাজারীকার পরিবার।

সোমবার ভূপেন হাজারীকার ছেলে তেজ হাজারীকা এ পুরস্কার নিতে অস্বীকার করেন। এর আগে বিখ্যাত মণিপুরী চিত্রপরিচালক আরিবাম শ্যাম শর্মা নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিলের প্রতিবাদে পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে দেন।

ভারতে ১৯৫৫ সালে প্রথম নাগরিকত্ব বিল পাস হয়। সেই বিলের ওপর সংশোধনী এনে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল-২০১৬ পাস করা হয়। নতুন বিল অনুসারে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ থেকে যেসব সংখ্যালঘু (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্শি ও খ্রিস্টান) অত্যাচারিত হয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছে তাদের ভারতের নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

এরপর থেকে আসামসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতে প্রতিবাদ শুরু হয়। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ২৬ জানুয়ারি ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এ সম্মাননা প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু সোমবার ভূপেন হাজারীকার ছেলে তেজ ভূপেন হাজারীকা জানান, তার পরিবার এ ভারতরত্ন গ্রহণ করবে না। নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদ করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তেজ বলেন, আমি এনআরসি নিয়ে আসামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি। ভূপেন হাজারীকা সব সময় আসামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আন্দোলন করেছেন। আমরা তাই এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পারব না।

আমরা জানিয়ে দিতে চাই, ভারত সরকার তাকে যে মরণোত্তর সম্মাননা দিতে চেয়েছে, তা আমাদের পরিবার গ্রহণ করবে না। নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আসামের সাদিয়ায় ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভূপেন হাজারীকা জন্মগ্রহণ করেন।

৮৫ বছর বয়সে ২০১১ সালের ৫ নভেম্বর মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই হাসপাতালে তিনি মারা যান। ভূপেন হাজারীকা আসামের মানুষ হলেও তিনি ছিলেন বাঙালিদের ভালোবাসার শিল্পী। তিনি প্রচুর বাংলা গান গেয়েছেন।

অসমিয়া, বাংলা, হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। সিনেমায় তিনি বহু নেপথ্য সঙ্গীতও গেয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রচুর গান গেয়েছেন তিনি। তার গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১১ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ পদক’ দেন। ভূপেন হাজারীকা ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, চলচ্চিত্রকার এবং কবি।

তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পদক পেয়েছেন ১৯৯২ সালে। ২০০৯ সালে পেয়েছেন আসামরত্ন পদক, ১৯৭৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মশ্রী, রাষ্ট্রীয় সম্মান পদ্মভূষণ পেয়েছেন ২০০১ সালে, পদ্মবিভূষণ পেয়েছেন ২০১২ সালে। সঙ্গীত নাটক একাডেমি পদকসহ বহু পুরস্কার ও পদক তিনি পেয়েছেন।

ভূপেন হাজারীকাকে মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মাননা দেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভূপেন হাজারীকার সঙ্গীত ন্যায়বিচার, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করে। বিশ্বজুড়ে তিনি ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে জনপ্রিয় করেছেন। তার এ সম্মানপ্রাপ্তিতে আমি আনন্দিত।

মন্তব্য
Loading...