মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন ৪৯ প্রার্থী

সংরক্ষিত নারী আসন

নারী আসন বাড়ানো নয়, কমানোর কথা ভাবছি -ওবায়দুল কাদের * জাতীয় পার্টি প্রমাণ করবে, সংসদে দেশ ও গণমানুষের পক্ষে কথা বলতে বেশিসংখ্যক সদস্য দরকার হয় না -মসিউর রহমান রাঙ্গা * সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে পারলে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাব -অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

45

একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪৩ জন, সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ৪ জন, ওয়ার্কার্স পার্টির একজন ও স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী হয়েছেন।

তবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ না নেয়ায় সংখ্যানুপাতে প্রাপ্ত একমাত্র আসনটি স্থগিত রয়েছে। এ কারণে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসন থাকলেও এ মুহূর্তে একটি আসন শূন্য থাকল।

সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এ দিন নির্বাচন কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র দাখিলের পর প্রার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে কয়েকজন প্রার্থী দেশের উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করার কথা জানান।

মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম সাংবাদিকেদের বলেন, মঙ্গলবার (আজ) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। অতিরিক্ত প্রার্থী না থাকায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরদিন (১৭ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত প্রার্থীদের সংসদ সদস্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি বলেন, এরপর নবনির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনে মাননীয় স্পিকারের কাছে গেজেটের কপি পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় পার্টির চার সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীকে নিয়ে ইসিতে আসেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে জাতীয় পার্টি মনোনীত চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রার্থীরা হলেন- সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১ আসনের সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান ও নাজমা আকতার।

এ সময় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম এমপি, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জিন্না এমপি, ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী এমপি, যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি, মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেল এমপি ও যুগ্ম দফতর সম্পাদক এমএ রাজ্জাক খান উপস্থিত ছিলেন।

পরে মশিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী বাছাইয়ে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। ওই কমিটি ৫৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ৪ জনকে মনোনীত করেছে। ওই চারজনই জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে আমরা যুক্তি দিয়ে কথা বলব, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিরোধিতা করব।

আমরা কখনোই অশ্রাব্য গালাগাল বা ফাইল ছোড়াছুড়ি করব না। জাতীয় পার্টি প্রমাণ করবে সংসদে দেশ ও গণমানুষের পক্ষে কথা বলতে বেশিসংখ্যক সদস্য দরকার হয় না। স্বল্পসংখ্যক সদস্য নিয়েও প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করা সম্ভব।

এরপর মনোনয়নপত্র দাখিলকারী সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত। এর আগে আমি দুই মেয়াদে ১০ বছর সংসদ সদস্য ছিলাম।

তখন দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করেছি। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদের ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহারের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। এবার একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হতে পারলে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নারী আসনের মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমরা ত্যাগী এবং তৃণমূলকে প্রাধান্য দিয়েছি। সব সেক্টর ও কর্নারের প্রতিনিধিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নারী আসন বাড়ানো নয়, কমানোর চিন্তা করছি। এমনিতেই ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষিত নারী আসন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত আছে। নারীর ক্ষমতায়ন অনেকদূর এগিয়ে যাবে। অনেক আপগ্রেড হবে।

প্রার্থী বাছাইয়ে দলের কার্যক্রম তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আমরা অনেক সময় নিয়েছি। আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনা সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে দীর্ঘদিন দেখাশোনা করে আসছেন। জাতীয় সংসদে স্থান পাননি- এমন অনেককে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

দে আর অল ব্রিলিয়ান্ট (তারা সবাই মেধাবী), পোলাইট (বিনয়ী), কমিটেড (প্রতিশ্রুতিশীল) এবং ডেডিকেটেড (নিবেদিত)। তিনি বলেন, তারা আমাদের দলের প্রতি কমিটেড, দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিও তারা কমিটেড, আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের যে ত্যাগ ও ভূমিকা সেটা আমরা গুরুত্ব দিয়েছি, অগ্রাধিকার দিয়েছি।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি যখন মনে করে কোনো নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা নেই, তখন তারা এ ধরনের অভিযোগ করে। রোজ কিয়ামত পর্যন্ত তারা অভিযোগ করবে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নির্বাচন হওয়ার আগেই হেরে যায়।

নির্বাচন হওয়ার আগেই তারা নির্বাচন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে। বিরূপ মন্তব্য করা ও নালিশ করা তাদের পুরনো অভ্যাস। যেসব নির্বাচনে তারা নির্বাচিত হয়েছে, সেসব নির্বাচনেও দেখা গেছে- যখন ফলাফল হবে, গণনা চলছে, তখনও জালিয়াতির কথা বলে।

এটা বিএনপির পুরনো অভ্যাস। এটা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা হাস্যকর হয়ে গেছে। তাদের নালিশের কোনো বাস্তবতা, সত্যতা নেই। দেশে-বিদেশে নির্বাচনকে (একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) তারা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করেছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। সারা দুনিয়া এ নির্বাচনকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের যে ৪৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন : সংখ্যানুপাতে ৪৩ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন।

তারা হলেন- ঢাকা থেকে সুবর্ণা মুস্তফা, শিরীন আহমেদ, জিন্নাতুল বাকিয়া, শবনম জাহান শিলা ও নাহিদ ইজহার খান। চট্টগ্রাম থেকে খাদিজাতুল আনোয়ার ও ওয়াশিকা আয়েশা খানম; কক্সবাজার থেকে কানিজ ফাতেমা আহমেদ, খাগড়াছড়ি থেকে বাসন্তী চাকমা, কুমিল্লা থেকে আঞ্জুম সুলতানা ও আরমা দত্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম, গাজীপুর থেকে শামসুন্নাহার ভূঁইয়া ও রুমানা আলী, বরগুনা থেকে সুলতানা নাদিরা, জামালপুর থেকে মিসেস হোসনে আরা, নেত্রকোনা থেকে হাবিবা রহমান খান (শেফালী) ও জাকিয়া পারভীন খানম, পিরোজপুর থেকে শেখ এ্যানী রহমান, টাঙ্গাইল থেকে অপরাজিতা হক, সুনামগঞ্জ থেকে মো. শামীমা আক্তার খানম, মুন্সীগঞ্জ থেকে ফজিলাতুন নেসা, নীলফামারী থেকে রাবেয়া আলীম, নরসিংদী থেকে তামান্না নুসরাত বুবলী, গোপালগঞ্জ থেকে নার্গিস রহমান, ময়মনসিংহ থেকে মনিরা সুলতানা, ঝিনাইদহ থেকে মোছা. খালেদা খানম, বরিশাল থেকে সৈয়দা রুবিনা মিরা, পটুয়াখালী থেকে কাজী কানিজ সুলতানা, খুলনা থেকে গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, টাঙ্গাইল থেকে খন্দকার মমতা হেনা লাভলী, দিনাজপুর থেকে জাকিয়া তাবাসসুম, নোয়াখালী থেকে ফরিদা খানম (সাকী), ফরিদপুর থেকে রুশেমা বেগম, কুষ্টিয়া থেকে সৈয়দা রাশেদা বেগম, মৌলভীবাজার থেকে সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, রাজশাহী থেকে আদিবা আনজুম মিতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ফেরদৌসী ইসলাম জেসী, শরীয়তপুর থেকে পারভীন হক সিকদার, রাজবাড়ী থেকে খোদেজা নাসরীন আক্তার হোসেন, মাদারীপুর থেকে তাহমিনা বেগম, পাবনা থেকে নাদিয়া ইয়াসমিন জলি ও নাটোর থেকে রত্না আহমেদ।

ওয়ার্কার্স পার্টি ও স্বতন্ত্রের একজন করে প্রার্থী : সংখ্যানুপাতে ওয়ার্কার্স পার্টির একজন সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি হলেন লুৎফুন নেসা খান। তিনি দলটির সভাপতি সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের স্ত্রী। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে নারী আসনের প্রার্থী হয়েছেন সেলিনা ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলামের স্ত্রী।

মন্তব্য
Loading...