গাইবান্ধা-৩ আসন: বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

gbn

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধাঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গাইবান্ধা-৩ আসনে নির্বাচনী মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রতিদিন দফায় দফায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে সরগরম এলাকা। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটারদের ধারণা, মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে লেবু মাওলানার পক্ষে ভোটের মাঠে গণজোয়ার দেখা যাচ্ছে। অধিকাংশ ভোটারের মুখে মুখে এখন ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার আলোচনা। ইতোমধ্যে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নিজ নিজ প্রতীকের পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।এ ছাড়া গাইবান্ধা-৩ আসনে আরও আটজন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে মইনুর রাব্বী চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে সুরুজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে এটিএম আওলাদ হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকে আব্দুল্লাহ আদিল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল প্রতীকে মোছাদ্দিকুল ইসলাম, জনতার দলের কলম প্রতীকে মনজুরুল হক, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকে এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি এবং ঢেঁকি প্রতীকে আজিজার রহমান। এদের মধ্যে ট্রাক ও ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় গাইবান্ধা-৩ আসন জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি ছিল। পরে তা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা দখলে নেন। আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী থাকলেও তাঁর প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাঠে সরব বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। সাদুল্লাপুর উপজেলার বাসিন্দা ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক এবং পলাশবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম পৃথক দুটি উপজেলা থেকে প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপির প্রার্থী ডা. সাদিক ও জামায়াতের প্রার্থী লেবু মাওলানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আর মাত্র কয়েক দিন পরই ভোট গ্রহণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের রায়ে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং পলাশবাড়ী উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৩ সংসদীয় আসন। সাদুল্লাপুর উপজেলায় রয়েছে ৭৫টি এবং পলাশবাড়ী উপজেলায় ৭১টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে ৫৬টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ভোটের মাঠে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচিত হলে সাদুল্লাপুর উপজেলায় পৌরসভা গঠনসহ দুই উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবেন।
বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক বলেন, ভোটারদের সাড়া দেখে তিনি আশাবাদী। নির্বাচিত হলে এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।
সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ীর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা আশা করছেন, এ আসনে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধা-৩ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৪৬টি ভোটকেন্দ্রের ৯৫৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন