মেলানিয়া ট্রাম্পের আত্মজৈবনিক তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ার: ‘আবেগী, নান্দনিক ও সিনেম্যাটিক’

gbn

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসির ট্রাম্প–কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসে তাঁর প্রযোজিত আত্মজৈবনিক তথ্যচিত্র ‘মেলানিয়া’ -এর প্রিমিয়ার প্রদর্শনীর মাধ্যমে আরেকটি আলোচিত উপস্থিতি জানান দেন। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি এবং পরে বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিংয়ের আগে এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

কালো গালিচায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত হন মেলানিয়া ট্রাম্প। তথ্যচিত্রটির সাদা–কালো নান্দনিক থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত দর্শকদের সামনে চলচ্চিত্রটি দেখানো হয়, যেখানে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের আগের ২০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ ও প্রস্তুতির ভেতরের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রিমিয়ার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, তথ্যচিত্রটি “সুন্দর, আবেগী, ফ্যাশনসমৃদ্ধ এবং সিনেম্যাটিক।” তিনি জানান, একজন সাধারণ নাগরিক থেকে পুনরায় ফার্স্ট লেডি হয়ে ওঠার যাত্রাটি দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর ভাষায়, “এই চলচ্চিত্র নিয়ে আমি খুব গর্বিত। এটি তৈরি করা সহজ কাজ নয়। আমি দেখাতে চেয়েছি—একজন ফার্স্ট লেডি হিসেবে দায়িত্ব পালনে কী ধরনের প্রস্তুতি, পরিশ্রম ও ভারসাম্য দরকার।”

তথ্যচিত্রে তাঁর অভিষেক প্রস্তুতি, ব্যবসা পরিচালনা, পরিবার ও জনকল্যাণমূলক কাজের নানা দিক উঠে এসেছে। ‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওস প্রায় ৪ কোটি ডলারে কিনে নিয়েছে বলে জানা গেছে। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ব্রেট র্যাটনার। শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দেড় হাজার প্রেক্ষাগৃহে এটি প্রদর্শিত হবে এবং প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন শেষ হলে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে স্ট্রিম করা হবে।

প্রিমিয়ারে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব ও সমর্থকরা। হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস, অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এবং মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেসের প্রশাসক ড. মেহমেত ওজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক অতিথিদের মধ্যে জর্ডানের রানী রানিয়া ও এনএইচএল হল অব ফেমার ওয়েন গ্রেটস্কির উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছে।

তথ্যচিত্রটি শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, ফ্যাশন, শোক এবং রসবোধের দিকগুলোও তুলে ধরেছে। দর্শকমহলে এটি কতটা সাড়া ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই মুহূর্তে এটি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিজের ভাষায়, নিজের শর্তে সামনে আনার একটি বড় মঞ্চ তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলচ্চিত্রটি নিয়ে বলেন, “মানুষ এখানে এমন এক ধরনের গ্ল্যামার দেখতে পাবে, যা তারা আগে দেখেনি। আমাদের দেশের সেই সৌন্দর্য ও আড়ম্বর আবার দরকার।” স্ত্রীকে ছাড়া নিজেকে কল্পনা করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁর জীবনে ও প্রশাসনে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রেখেছেন এবং তাঁকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করেছেন।

একই প্রশ্নের উত্তরে মেলানিয়া ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন, “আমরা সবাই হয়তো ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় থাকতাম। তবে যেভাবে সবকিছু হয়েছে, সেটাই ভালো।” জিবি নিউজ24ডেস্ক//

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন