প্রকল্পে গতি আনতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

একনেক বৈঠক

49

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে মন্ত্রীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা ও যথাযথভাবে কাজ শেষ করতে নজরদারি বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরদারি বাড়ালে কাজের গতি বাড়বে। নতুন সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শুরুতেই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এটাই ছিল প্রথম একনেক বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের শুরুতেই দেয়া বক্তব্যে বলেন, আমি চাই যে প্রকল্পগুলো আমরা গ্রহণ করেছি সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা এবং সেটা যেন যথাযথভাবে হয় সে ব্যাপারে নজরদারিও বাড়াতে হবে।

যত বেশি নজরদারি বাড়ানো হবে কাজের গতি ও মান তত বেশি ভালো হবে। সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের লক্ষ্যটা যেন অর্জন করতে পারি। এখন উন্নয়নশীল দেশ।

আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮৬ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছি। এটা ধরে রেখে আরও এগিয়ে যেতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমি জানি একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছানোর পরে প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো অনেক কঠিন।

তবে, বিশ্বাস করি আমরা এটি করতে পারব। সরকার দারিদ্র্য হার ২১ শতাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এই হার আরও কমিয়ে আনব, এটি আমাদের মাথায় আছে।

তিনি বলেন, আমরা একত্রে কাজ করছি এবং আমরা একটি টিম ওয়ার্ক তৈরি করব যাতে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ নির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই সাফল্য ধরে রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, আরও পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার জন্য আমরা জনগণের কাছ থেকে দায়িত্ব পেয়েছি। এজন্য বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ সম্পন্ন করতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।

ব্যাপক জনসমর্থনের মাধ্যমে সরকারকে পুনর্নির্বাচিত করায় দেশের মানুষের প্রতি কৃজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা। জনগণের আস্থার মার্যাদা সমুন্নত রাখতে মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের লোকদের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

একনেক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে উন্নয়ন। এই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে চলবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মান রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলোর কথা তুলে ধরেন। ভবিষ্যতে এই কর্মসূচি আরও জোরদার করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী ও জার্মান রাষ্ট্রদূতের মধ্যে যোগাযোগ সেক্টরে সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন। জার্মান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জার্মান বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে জার্মান চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মার্কেলের একটি বার্তা পৌঁছে দেন। বার্তায় জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, আপনার দেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আমি এ দেশের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। অংশীদারিত্বের চেতনা নিয়ে সর্বদা বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন জার্মান চ্যান্সেলর।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, শিগগিরই দুটি জার্মান প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসবে। বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর মতো বহু খাত রয়েছে। অনেক জার্মান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

রাষ্ট্রদূত পিটার ফাহরেনহোল্টজ তিন দিনের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে সেখানে বিভিন্ন স্তরের লোকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মো. জয়নুল আবেদিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য
Loading...