পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিষয়ক খসড়া পাস করাতে ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন বলে সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে

88

জিবি নিউজ২৪ ||

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সে দেশের পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট বিষয়ক খসড়া পাস করাতে ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন বলে সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া গেছে। তিন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও দ্যা ইন্ডিপেনডেন্টের খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ‘সুনিশ্চিত’ পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পাদিত থেরেসা মে’র ওই খসড়া চুক্তির প্রশ্নে নিম্নকক্ষের আইনপ্রণেতাদের অবস্থান বিশ্লেষণ করে ওই তিন সংবাদমাধ্যম দেখিয়েছে, লেবার পার্টিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রায় সব আইনপ্রণেতাই থেরেসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। পাশাপাশি নিজ দলের প্রায় ১০০ আইনপ্রণেতার বিরোধিতার মুখে পড়তে যাচ্ছেন তিনি। সবমিলে বড় ধরনের পরাজয় এড়ানো কঠিন হবে থেরেসার জন্য।

২০১৯ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বের হয়ে যাওয়ার কথা। পরবর্তী সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে জোটটির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মে। সেই খসড়া চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও চুক্তি নিয়ে দ্বিমতের কারণে পদত্যাগ করেছেন ব্রেক্সিটবিষয়ক দুইজন মন্ত্রী। অন্য কয়েকজন মন্ত্রীসহ পদত্যাগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। তুমুল বিরোধিতার মধ্যে থেরেসার ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে অনুমোদন না পাওয়ার আশঙ্কাই প্রবল। তিনটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, থেরেসা মে ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে রয়েছেন।

৬৫০ আইনপ্রণেতার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্পিকার ও তার ৩ সহযোগী মিলে ৪ জনের ভোট দানের অধিকার নেই। আইরিশ রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা তাদের আসনে বসেন না। সে কারণে ৬৩৯ ভোটের মধ্যে ৩২০ আইনপ্রণেতাদের ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে। দ্য গার্ডিয়ান, বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবর অনুযায়ী ২৬২ আসনের লেবার দলের ভোটাধিকার থাকা ২৫৬ জনের প্রায় সব আইনপ্রণেতাই থেরেসার বিপক্ষে ভোট দিতে যাচ্ছেন। দ্য গার্ডিয়ান ধারণা করছে, এর পাশাপাশি লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের ১২ জন, গ্রিন পার্টির ১জন, প্লেইড কিমরুর ৪ জন আর স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির ৩৫ আইনপ্রণেতাও লেবারদের সঙ্গী হয়ে থেরেসার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন। এদিকে ৩১৮ আসনসম্পন্ন কনজারভেটিভ পার্টির ভোট সংখ্যা ৩১৬টি। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের বিশ্লেশণ অনুযায়ী, এদের মধ্যে ১০০ জন থেরেসার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। একই আশঙ্কা জানিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ১০০ কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির ১০ আইনপ্রণেতা তার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। তিন সংবাদমাধ্যমের সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবমিলে ২৫০ টি ভোট নিশ্চিত করতেই হিমশিম খেতে হবে থেরেসা মে’কে।

লেবার সূত্রকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, থেরেসা মে যদি তার খসড়ায় অনুমোদন পেয়ে যান তবে সেটা হবে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের (১৫ জানুয়ারি) এ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর। তবে আইনপ্রণেতাদের তুমুল বিরোধিতার মুখে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন প্রধানমন্ত্রী মে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত। কোনও আইন প্রণয়নের অধিকার তাদের নেই। সে কারণে তারা চুক্তি অনুমোদনের ব্যাপারে কোনও ভোট দিতে পারবে না। কেবল এ সংক্রান্ত বিতর্ক শেষে পর্যালোচনা হাজির করতে পারবে। সে কারণেই নিম্নকক্ষের ভোটাভুটির মধ্য দিয়েই ব্রেক্সিটের খসড়া চুক্তির প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More