সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিরমুল কমিটি-আলতাব আলী ফাউন্ডেশন ও যুদ্ধাপরাধ বিচারমঞ্চের শোক প্রকাশ

122

লন্ডন ||

বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে  একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিরমুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার প্রেসিডেন্ট সাবেক কাউন্সিলার নূরুদ্দিন আহমদ, সেক্রেটারী জামাল খান,  আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী আনসার আহমেদ উল্লাহ ও যুদ্ধাপরাধ বিচারমঞ্চের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী-সেক্রেটারী রুমি হক।  সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে তার এক যোগ্য সন্তানকে।তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে তারা শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর মসবেদনা জানিয়েছেন, সেই সাথে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য যে ৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ১০টার দিকে থাইল্যান্ডের  একটি হাসপাতালে  তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)মৃতত্যুকাকে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে  বৃহস্পতিবার তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করতে পারেননি১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সাথে আশরাফূল ইসলামের  পিতা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি  সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়। পিতার মৃত্যুর পর সৈয়দ আশরাফুল যুক্তরাজ্যে চলে  আসেনতিনি বৃটেনে বসবাসকালীন সময় তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও কমউনিটির সেবায় আত্মনিয়োগ করেন, বিশেষ করে ইষ্ট লন্ডনে বরনবাদ বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে থাকা আশরাফ দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে কিশোরগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হন তিনিসেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের পর তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক হন। তবে ২০১৬ সালে দলের সম্মেলনে এই পদ ছেড়ে দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সৈয়দ আশরাফ। ২০১৫ সালের জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেনব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ব্রিটিশ ভারতীয় শীলা ঠাকুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন। ২০১৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেনসৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায়ই অসুস্থ হন। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন

মন্তব্য
Loading...