এড. আমজাদ হোসেন ও ৯০’র ছাত্রনেতা মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবী ও ১৩ নেতার কারামুক্তি দিবস আজ

79
gb

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ||
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন ও স্বৈরচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী শহীদ দৌলতের অন্যতম সহযোগী মুজিব সেনা ঐক্য লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও ৯০ দশকের ছাত্রনেতা মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবীসহ তৎসময়ের গ্রেফতারকৃত ১৩নেতার জেল মুক্তির দিন আজ।
এই দিবস উপলক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ভোটারদের ও দলের সমগ্র কুতুবদিয়া উপজেলায় নৌকা প্রতিক সম্বলিত টি-শার্ট বিতরণ করেন মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবী। যা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। এতে করে কক্সবাজার-২ আসনের দুই বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক এর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়। পাশাপাশি কক্সবাজার-১ ও ২ আসনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারনায় অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও কক্সবাজার-৩ আসনে মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবীর নিজ বাসস্থান থাকার কারণেও নৌকার মার্কার জন্য তার পরিবার সাইমুম সরওয়ার কমলের জন্যও জোর প্রচারনা চালান।
স্বৈরচার এরশাদ বিরোধী সর্বদলীয় মিছিল থেকে ১৯৮৭ সালের ৫ ডিসেম্বর চিরিঙ্গা দুলাল মার্কেটের সামনে থেকে গ্রেফতার হয়েছিল চকরিয়া ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া খান কুতুবী, দুলাল ও আবুল হাসেম। তাদের মুক্তির দাবীতে বর্তমান কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট আমজাদ হোসেন ও দৌলত খানের নেতৃত্বে উপজেলা ঘেরাও করতে গেলে চকরিয়ার তৎকালীন ওসি আবদুর রউফের নির্দেশে দারোগা রামা বাবু নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী ছাত্র জনতার উপর ব্যাপক গুলি চালালে, গুলিবিদ্ধ হন দৌলত খান। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মালুমঘাট খৃষ্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মৃত্যু বরণ করেন। তার অন্যতম সহযোগী ছিলেন ছাত্রনেতা ইয়াহিয়া খান কুতুবী। পরিশ্রমী এই ছাত্রনেতা তৎসময়ের জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রয়াত একেএম মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য এডভোকেট জহিরুল ইসলাম এর ¯েœহধন্য হন ইয়াহিয়া খান কুতুবী। জেলার প্রতিথযষা এসকল নেতৃবৃন্দের কাছে অত্যন্ত প্রিয় পাত্র হিসাবে যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে ডাক পেতেন এই ছাত্রনেতা। তিনি যখন গ্রেফতার হয়ে জেলে কারন্তরিন। তখন এডভোকেট আমজাদ হোসেন ও ইয়াহিয়া খান কুতুবীকে দেখতে জেল খানায় তাদের নিজবাড়ী থেকে খাবার নিয়ে যেতেন। পরবর্তীতে তিনি আজকের এই দিনে কারামুক্ত হয়ে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসলে তাকে ছাত্র রাজনীতি থেকে কুতুবদিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এই কণ্ঠাকাপূর্ণ রাজনৈতিক মাঠের অকুতভয় সৈনিক ইয়াহিয়া খান কুতুবী তার রাজনৈতিক সহযোগী শহীদ দৌলতকে হারালেও মনোবল হারাননি এখনো। উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরি ঘুর্ণিঝড়ে তার দুই বোন, খালা-নানীসহ পরিবারের অনেক সদস্যকে হারান। এই ঘুর্ণিঝড়ে উপকূলের প্রত্যন্ত অ লের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। তাদের আজীবন স্মরণে রাখতে ইয়াহিয়া খান কুতুবী একক প্রচেষ্টায় গড়ে তোলেন ‘২৯এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন মানব সেবামূলক কার্যক্রম। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান নুরুল আবছারের সার্বিক সহযোগীতায় কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরী শহীদ দৌলত ময়দানে ২৯ এপ্রিল স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে চক্ষুশিবির ও চশমা বিতরণ এবং চিকিৎসা শিবির। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মাননীয় বানিজ্যমন্ত্রী তোফাইল আহমদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য প্রয়াত আবদুর রাজ্জাক, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি ও চট্টগ্রামের কৃতিসন্তান ফজল করিম চৌধুরী, বিচারপতি সামশুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বর্তমান মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদন ড. হাসান মাহমুদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম এমএ, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সাবেক কুতুবদিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, কোষ্ট ষ্ট্রাষ্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, আবদুল হক জিকু, এডভোকেট সেলিম, মেম্বার নুরুল ইসলাম কুতুবী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে কাপড়, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন। এর পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে ওই ফান্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচী জাতীয়ভাবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছেন। এই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচীতে যারা এযাবৎ অংশ গ্রহন করে আসছেন তাদেরকে মোঃ ইয়াহিয়া খান কুতুবী ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
ইয়াহিয়া খান কুতুবীর দাবী, ২৯এপ্রিল কে জাতীয় শোক দিবস ঘোষনা করা হোক। নিহতদের স্মরণে শ্রেতপত্র ও ক্ষতিগ্রস্থদের পূর্ণবাসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আবাসন প্রকল্পের আওতায় এনে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা গ্রহন করা। এই প্রেক্ষিতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ড. হাসান মাহমুদ, তথ্যসচিব আবদুল মালেক উপস্থিতিতে বারংবার দেখা করে উক্ত দাবী সমূহ তুলে ধরেন।
এই ইয়াহিয়া খান কুতুবী আওয়ামীলীগ রাজনীতির একজন পোড়খাওয়া কর্মী হিসাবে নিয়মিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্মসূচীর সফল বাস্তবায়ন সহ শতস্ফুর্ত অংশ গ্রহন করেন। এই আওয়ামীলীগ রাজনীতির কারণে তিনি বিভিন্ন সময় জামায়াত শিবিরের আক্রমনের লক্ষবস্তুতে পরিনত হয়। পাশাপাশি তার ভাই ও পিতা কুতুবদিয়া উত্তর ধুরুং ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ছৈয়দ নুর মেম্বার জামায়াত শিবিরের হাতে চরমভাবে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তিনি ব্যবসায়ীক কারণে ঢাকা কক্সবাজার আসা যাওয়ায় থাকলেও, তিনি সবসময় এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করেন। কিভাবে এই দুর্গত এলাকার মানুষের ভাগ্য ফেরাবেন।
এই মাঠপর্যায়ের পরিশ্রমি ও ত্যাগী, নিবেদিত প্রাণ নেতাকে দলের পক্ষ থেকে যথাযথ মূল্যায়নের সময় এসেছে। এছাড়াও তার এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী, এই তৃণমুলের নিবেদিত প্রাণ নেতাকে মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যে কোন একটি পদে অধিষ্ঠিত করলে তৃণমূল থেকে ত্যাগী নেতা উঠে আসবে। কারণ যেখানে ত্যাগের মূল্য নেই, সেখানে ত্যাগী জন্ম নিতে পারে না।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More