বিদেশের মাটিতে ৫৫ বছর পর প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল ইংল্যান্ড

189
gb

জিবি নিউজ 24 ডেস্ক//

বিদেশের মাটিতে ৫৫ বছর পর প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করেছে ইংল্যান্ড। কলম্বোতে সিরিজের তৃতীয় শেষ টেস্ট ৪২ রানে জিতে শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো ও বিদেশের মাটিতে ১৯৬৩ সালের পর কোনো প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করল জো রুটের নেতৃত্বাধীন দলটি। ১৯৬৩ সালে বিদেশের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজে কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল টেড ডেক্সটারের দল। চলতি সফরে ইংল্যান্ড ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতেছে।

ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কাকে ৩২৭ রানের টার্গেট দিয়ে ৫৩ রানের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে কলম্বো টেস্ট জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ইংল্যান্ড। জয়ের জন্য ম্যাচের শেষ দুই দিনে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল আরও ২৭৪ রান, ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। চতুর্থ দিনের শুরুটা দেখেশুনেই করেছিলেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান কুশল মেন্ডিস ও লক্ষণ সান্দাকান। তবে এই জুটি বেশি দূর একত্রে যেতে পারেননি। দিনের দশম ওভারের শেষ বলে ৭ রান করা সান্দাকানকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান বাঁ-হাতি স্পিনার জ্যাক লিচ।

৮২ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন মেন্ডিস ও রোশন সিলভা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে থাকেন তারা। দুজনই হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। ধীরে ধীরে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন মেন্ডিস। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। রান-আউটের ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ৮৬ রানে থামতে হয় তাকে। ১২৯ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান মেন্ডিস। ৬ষ্ঠ উইকেটে রোশন সিলভার সঙ্গে তার জুটিতে আসে ১০২ রান।

মেন্ডিসের বিদায়ের পর দলের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব পান রোশন সিলভা ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নিরোশান ডিকাভিলা। কিন্তু শ্রীলঙ্কাকে হতাশ করেছেন তারা। জুটিতে ৩০ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি দুজন। লিচের তৃতীয় শিকার হয়ে ১৯ রানে থেমে যান রোশন সিলভা।  ডিকাভিলাও মঈন আলীর ঘুর্ণি সামলাতে না পেরে লেগ বিফোর ফাঁদে পড়ে ৬৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন।

ডিকাভিলা আউট হলে শ্রীলঙ্কার স্কোর হয়ে যায় ৯ উইকেটে ২২৬ রান। এ অবস্থায় নিশ্চিত জয়ের সুবাস পাচ্ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু ইংল্যান্ডের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেন শ্রীলঙ্কার শেষ দুই ব্যাটসম্যান অধিনায়ক সুরাঙ্গা লাকমল ও মালিন্দা পুস্পকুমারা। দাপট দেখিয়ে রান তুলছিলেন তারা। এক্ষেত্রে বেশি পারদর্শী ছিলেন পুস্পকুমারা। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেন এই বোলার।

আবারও ম্যাচ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দলীয় ২৮৪ রানে লাকমালকে শিকার করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন লিচ। পুস্পকুমারার লড়াই বৃথা হয়ে যায়। ৪০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১১ রান করেন লাকমল। জুটিতে আসে ৫৮ রান। ইংল্যান্ডের মঈন আলি ও লিচ ৪টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টো ও সিরিজ সেরা হয়েছেন বেন ফোকস।