সিলেটে জামায়াতকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি

153
gb

সিলেট নিউজ: জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সিলেট বিএনপির ‘ক্ষত’ এখনো শুকায়নি। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী রাখায় জামায়াত ছাড়াই একক নির্বাচন করে জয় ঘরে তুলেছিলেন বিএনপি’র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর থেকে সম্পর্কে চলছে টানাপড়েন। একসঙ্গে আন্দোলন কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছেন নেতারা। এই অবস্থায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সিলেটের দুটি আসনে কোনোভাবেই জামায়াতকে ছাড় দিতে রাজি নয় তৃণমূলের নেতারা। এ নিয়ে তারা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতকে দুই আসনে ছাড় না দিতে অনুরোধও জানিয়েছেন। সিলেট বিএনপিও চায় এই আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী। তাদের দাবি- বার বার এই আসনগুলো ছাড় দেয়া হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এখানে গড়ে উঠবে না। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল। কেন্দ্রের নেতারা এ নিয়ে দেন-দরবার করলেও আসন ভাগাভাগির ব্যাপারে সিলেট জামায়াতের নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ সংসদীয় আসন ছাড় দেয়া হয়েছিল ২০দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতকে। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে জোট থেকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় জামায়াত নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এবারো এই আসনটি জোটের কাছে চেয়েছে জামায়াত। তাদের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান। এই অবস্থায় গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের বিএনপি তৃণমূল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিএনপিসমর্থিত স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও আর এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী চান না। এ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে তারা সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের ১১টি ইউনিয়নের বিএনপিসমর্থিত চেয়ারম্যানদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, ‘আমরা জেনেছি সিলেট-৬ আসনে বিএনপি দলীয় কোনো প্রার্থী না দিয়ে ২০দলীয় জোটের অনুকূলে আসনটি ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের বিস্মিত এবং হতাশ করেছে। বিগত দিনে এরূপ ছাড়ে দল হিসেবে বিএনপি শুধু ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি বরং অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।’

সিলেট-৬ আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্ব সংকটের বিষয়টির প্রমাণ মিলেছে বিগত গোলাপগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে। এই নির্বাচনে বিএনপি কোনো যোগ্য প্রার্থী দিতে পারেনি। সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই আসনে অতীতের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী শোচনীয়ভাবে পরাজয়বরণ করেছেন। সুতরাং এ থেকেই বোঝা যায় তার সমর্থন ততোটা নেই। বিএনপির নেতারা মামলা, হামলায় বিপর্যস্ত। তিনি বলেন- দীর্ঘ দিন ধরে জোটকে আসন ছাড় দিলে ভবিষ্যতে নেতৃত্বও গড়ে উঠবে না। সিলেট-৬ আসনে বিএনপি থেকে জেলার সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সাবেক ছাত্রদল নেতা শিল্পপতি ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহিলা দলের নেত্রী হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী সহ একাধিক নেতা এ আসনে মনোনয়ন চান।

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনটি এবারো জোটের কাছে চাওয়া হয়েছে। আমরা অতীতেও এখান থেকে নির্বাচন করেছি। আশা করি জোট নেতারা এ ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন। এরপরও আমরা স্বতন্ত্র না প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবো সেই সিদ্ধান্ত পরে হবে।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ সালে এ আসন থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে তাকে এই আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাফিজ আহমদ মজুমদারের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এবারো এ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার পক্ষে ইতিমধ্যে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে নীরব প্রচারণা শুরু করেছেন জামায়াতের সমর্থকরা।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবুল হারিছ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় এ আসনে কাজ করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কানাইঘাটের সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। এবার এ আসনে বিএনপি তার পক্ষে একাট্রা। জোটগতভাবে মনোনয়ন না পেলে তৃণমূলের চাপে এবং দলের অস্তিত্ব রক্ষার্থে মামুনুর রশীদ এ আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপি এখানে ধানের শীষে ভোট দিতে পারে নি। এর চেয়ে যন্ত্রণা আর কি হতে পারে? আর গত নির্বাচনে জোটপ্রার্থী বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। সুতরাং তৃণমূলের নেতারা এবার দলীয় প্রার্থীর জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন বলে জানান তিনি।