মৌলভীবাজারে আমন ধানের বাম্পার ফলন : কৃষকদের উৎসাহী ও যান্ত্রিক নির্ভর করতে কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে কম্বাইন হারভেস্টারে ধান কাটা শুরু

259
gb

 নজরুল ইসলাম মুহিব মৌলভীবাজার প্রতিনিধি \ মৌলভীবাজার জেলায় এ বছর রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি। তবে শ্রমিক সংকট থাকায় প্রতি বছর কৃষকরা সময় মতো মাঠ থেকে ধান ঘরে তোলতে পারেন না। শ্রমিক সংকট নিরসসে কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে কৃষকদের উৎসাহী ও যান্ত্রিক নির্ভর করতে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে দেখা দেয় শ্রমিক সংকট। কখনো শ্রমিকের যোগান পেলেও অতিরিক্ত মুজুরি টাকা দিয়ে আনতে হয় তাদের। এ ছাড়াও শ্রমিক সংকট থাকায় জমি থেকে ধান উঠাতেও বিলম্ব হচ্ছে। এতে অনেক ধান জমিতে ঝরে গিয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থের পাশাপাশি মুখে হাসি মলিন হয়। জমিতে ধান প্রায় এক সাথে পাকে। তখন শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তোলা যায় না। অনেক ধান মাঠে ঝরে নষ্ট হয়। এছাড়া যাও কিছু শ্রমিক পাওয়া যায়, এতে মজুরি অনেক বেশি দিতে হয়। এই সংকট থেকে রেহাই পেতে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনটি স্থানীয় কৃষকদের আর্শিরবাদ বয়ে এনেছে। স্থানীয় কৃষক সৈয়দ হুমায়েদ আলী শাহিন বলেন,এই মেশিনটি আমাদের খুব উপকারে এসেছে। একই সাথে ধান

 

 

 

 

কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াই শেষে মেশিন থেকে একদিকে ন্যাড়া আর অন্যদিকে ধান বের হয়ে আসে। সময় বাঁচে, খরচও কম পড়ে। গত বছর মেশিন ছাড়া প্রতি কেয়ারে ৩৫- ৩৮’শ টাকা ব্যয় হয়েছে। এ বছর কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটায় ১২-১৫’শ টাকা খরচ হতে পারে। তবে ১২০ কেয়ার জমির ধান কাটা শেষে চুড়ান্ত খরচ বলা যাবে। কৃষক মখলিস মিয়া বলেন, জমিতে ধানতো প্রায় এক সময়ে পাকে। তখন শ্রমিক সংকটে ধান ঘরে তুলা যায় না। অনেক ধান নষ্ট হয়। এছাড়া যাও কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলে মজুরি অনেক বেশি চায়। এই সংকট থেকে রেহাই পেতে এই মেশিনটি অনেক ভালো। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ শাহজাহান জানান,কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা ধান কর্তন করলে লেবার খরচ অনেক কম হয়। এই মেশিন দ্বারা প্রতি ঘণ্টায় ৩ বিঘা জমির ধান কর্তন করা যায়। যার জ্বালানি খরচ লাগে ১৪ লিটার ডিজেল। যার মূল্য ৮০০-৯০০ টাকা। তাছাড়া দুর্যোগকালীন অল্প সময়ে কম খরচে ধান কর্তন করে ঘরে তোলা সম্ভব। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প ২য় পর্যায়ের আওতায় কম সময়ে অল্প খরচে কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা আমন ধান কর্তন, মাড়াই, ঝাড়াই শুরু হয়েছে। কম খরচ ও কম সময়ে অধিক জমির ধান সংগ্রহ সম্বব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বান্ধব সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের সুবিধার জন্য আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিগুলো ভর্তুকি দিয়ে প্রদান করছে। বিভিন্ন দামের ছোট-বড় মেশিন রয়েছে। কৃষকরা নিজেদের চাহিদা মতো ব্যবহার করতে পারবে। এই সব প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কৃষকরা উপকৃত হবে। কৃষি বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কাজী লুৎফুর বারী বলেন,কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা ধান কর্তন এই সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ যখন শ্রমিকের অভাবে পাকা ধান মাঠে পড়ে রয়েছে ঠিক তখনই কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা ধান কর্তন শুরু হয়েছে। দেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে সেই সাথে বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। যেন আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষি কাজে ব্যবহার করে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। তারই ফলশ্রুতিতে আজকের কম্বাইন হারভেস্টার দ্বারা আমন ধান কর্তন এখন যুগোপযোগী। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু এলাকায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে আমন ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াইয়ের শুভ সূচনা করা হয়। সারা দেশে কৃষি বিভাগের অধিনে এ ধরনের ৭টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন রয়েছে। ধান কাটার প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ শাহজাহান, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কাজী লুৎফুর বারী, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সুব্রত কান্তি দত্ত, শ্রীমঙ্গল উপজেলা অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিছা সুইটি, জিয়াউল হুদা, কৃঞ্চা রাণী দাস, দেবাশিষ দে, লিটন চন্দ্র দে ও অভিজিত রায় চৌধুরীসহ অন্যান্য কৃষি কর্মকতা। এছাড়া আশপাশ এলাকার কৌতুহলী কৃষকরা নতুন এ মেশিনে ধান কাটা দেখতে সমবেত হন। কৃষি বিভাগ জানায় এ বছর জেলায় আমন ধানের চাষাবাদের জমির পরিমানের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৯৬ হাজার দুইশত হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৯৮ হাজার ৪শত হেক্টর পরিমাণ জমি। জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রার চেয়েও বেশী উৎপাদন হবে বলে আশাবাদি।