জয় দিয়ে সিলেট রাঙাতে চান ওপেনার ইমরুল কায়েস

348
gb

জিবি নিউজ24 ডেস্ক //

ইনজুরির কারণে তামিম ও সাকিব থাকছেন না সিলেট ভেন্যুর অভিষেক টেস্টে—এ খবর পুরনো। তামিমের অনুপস্থিতিতে ইমরুল কায়েসের ওপর বাড়তি চাপ। ওয়ানডেতে পারফম্যান্সের কারণে তা বেড়েছে বহুগুণ। টেস্টের আগে তাই নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন তিনি। গতকাল অনুশীলন শেষে এসব বিষয়েই কথা বললেন। জানালেন, তিনি এবং দলের সবাই চান সিলেটের অভিষেক টেস্ট জয়ে উদ্‌যাপন করতে।

দীর্ঘদিনের ওপেনার সংকটে থাকা বাংলাদেশ দলে তামিমের অনুপস্থিতিতে ইমরুলই যেন ভরসা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে রানের ফোয়ারা বইয়ে দেওয়ার পর তিনি টেস্টেও তা অব্যাহত রাখবেন প্রত্যাশা দর্শকদের। ইমরুলও আত্মবিশ্বাসী, ‘ফরম্যাট ভিন্ন। তবে যদি রানে থাকেন, কিভাবে রান করবেন, তা মাথায় সাজানো থাকে। সেটা ওয়ানডে, টেস্ট বা টি-টোয়েন্ট হোক। আসল জিনিসটাই হচ্ছে আত্মবিশ্বাস।’ রানে না থাকলে সব কিছুতে সন্দেহ কাজ করে জানিয়ে বললেন, ‘এখন রানে আছি। চেষ্টা করছি যে আত্মবিশ্বাস আছে, টেস্টে সেটা কাজে লাগানোর। একটা সময় বড় দলের বিপক্ষে রান করেছি। জানি ওই জায়গায় কিভাবে সামলাতে হয়। চেষ্টা করব ভালোভাবে টিকে যাওয়ার।’ ওয়ানডেতে রান পেয়েছেন এবার টেস্টে কেমন হবে এমন প্রশ্নে বললেন, ‘বলা সহজ, করাটা কঠিন। চেষ্টা করব রান করার। গত এক বছর টেস্টে ভালো খেলিনি। আগে ভালো খেলেছি, সেটা তো মাথায় আছে। একটা সময় মানুষের খারাপ যায়। ওই জিনিসটা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো।’

সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজ তাঁকে ক্যারিয়ারের নতুন বাঁকে এনে দিয়েছে কি না জানতে চাইলে ইমরুল বললেন, ‘আসলে বিষয়টি তা নয়। আগে বড় বড় দলের বিপক্ষেও রান করেছি। কিন্তু সেটা দেখা গেছে ৫০-৬০-৭০ রানে থেমে গেছে। ইনিংসটা হয়তো বড় করতে পারিনি। বড় করতে পারলে বলতে পারতেন আপনি অনেক পরিণত ব্যাটসম্যান, ধারাবাহিক।’ সঙ্গে যোগ করলেন, ‘২০১০ সালে প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি রান করেছি। তখন কিন্তু অনেক কিছু বলা হয়নি এটা নিয়ে। কারণ আমার সেঞ্চুরি কম ছিল। এখন সেঞ্চুরি করেছি বলে সবার চোখে পড়েছে। আগেও রান করেছি; কিন্তু বড় করতে পারিনি। এখন চেষ্টা করি সেট হয়ে গেলে ইনিংসটা বড় করতে। দলের প্রয়োজন বুঝে খেলতে।’ তামিমের অনুপস্থিতির চাপ সামলাতে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যেতে চান, ‘ওয়ানডেতে তো এটাই ছিল। ওভাবে চিন্তা করিনি। চেষ্টা করছি নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে। প্ল্যান থাকবে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করতে।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি তাঁকে নতুন করে আলোয় এনেছে। বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন ইমরুল? জানালেন, ‘কেউ যদি প্রশংসা করে স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগে। তবে এর উল্টো দিকটাও ভাবতে হচ্ছে। আমি ওভাবেই চিন্তা করছি। আজ ভালো খেলছি বলে অনেক প্রশংসা করছেন, কাল আবার খারাপ করলে সব কিছু ভুলে যাবেন। সব কিছু চিন্তা করতে হয়। দিনশেষে নিজের খেলার দিকেই মনোযোগ রাখা ভালো।’

ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করা গেলেও প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন ইমরুল, ‘জিম্বাবুয়েকে গুরুত্ব দিয়ে দেখি। বাংলাদেশে এসে ওরা ভালো স্কোর করে প্রায়ই, যেটা অন্যান্য দল এসে পারে না! হয়তো বা তারা আমাদের কাছে হেরেছে। তবে তারা খারাপ দল নয়, ভালো দল।’ তারুণ্যনির্ভর টেস্ট দল নিয়ে বললেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা অনেক বড় জিনিস। ঘরোয়া ক্রিকেটে যা-ই করেন, টেস্ট ক্রিকেট অন্য রকম জায়গা। এখানে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। যারা খেলবে তারা অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে আছে। আশা করি এটার প্রভাব পড়বে না। তামিম-সাকিব অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় রোল মডেল। ওরা থাকলে প্রতিপক্ষ চাপে থাকবে। তবে যারা এখন দলে আছে, নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলে আশা করি কোনো সমস্যা হবে না।’

সব শেষে নিজেদের মাঠে প্রথমবার টেস্ট ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় থাকা সিলেটবাসীকে আশ্বস্ত করলেন ইমরুল, ‘সিলেটে খেলতে এসে দলের সবাই রোমাঞ্চিত। সবাই ভালো খেলে স্মরণীয় করে রাখতে চায়।’ যদিও নতুন ভেন্যুর উইকেট তো অপরিচিতই। তবে ব্যাটিং সহায়ক উইকটে হবে বলে প্রত্যাশা ইমরুলের, ‘সিলেটের যে উইকেটে অনুশীলন করেছি সেটা একরকম। টেস্টে কেমন হবে, তা কিউরেটর ভালো বলতে পারবেন। এখনো তেমন কিছু জানতে পারিনি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই হওয়ার কথা। এখানে লংগার ভার্সন খেলিনি। টি-টোয়েন্টি খেলেছি। আশা করি ব্যাটিং উইকেটই হবে।’

সাকিব না থাকায় নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট নাজমুল ইসলাম অপুর কথা ভেবেছে। বছরখানেক ধরে নাজমুল টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে ভালো করছেন। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে টেস্ট দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন এই স্পিন কোচ সুনীল যোশী, ‘এখন আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে টিম কম্বিনেশনে তার জায়গা কোথায় হয়।’ তবে তাইজুল ইসলামের ব্যাপারে অকুণ্ঠ প্রশংসা তাঁর কণ্ঠে, ‘তাইজুল বেশ ধারাবাহিক। বছরখানেক ধরে ওকে দেখছি, খুবই সফল টেস্ট ক্রিকেটে। একটি সংস্করণ খেললেও সে বেশ ধারাবাহিক। টানা এক জায়গায় বল করে যেতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটে যা দরকার, ধৈর্যের পরীক্ষা, চরিত্রের পরীক্ষা।’