পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের

196
gb

বেলজিয়াম:আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যাচাই করেই নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ওই জোট ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এবারও পর্যবেক্ষক পাঠানো না পাঠানোর বিষয়টি নির্ভর করছে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ কতটা নিশ্চিত হয় তার ওপর। ইইউ বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে তাগিদ দিয়েছে। এ ছাড়া মানবাধিকার ও সুশাসনের বিষয়েও নিবিড় দৃষ্টি রাখছে ইউরোপীয় এই জোট। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গত বুধবার জোটের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ ও ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফেদেরিকা মগেরিনি এ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশ-ইইউ তৃতীয় কূটনৈতিক বৈঠকেও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া ও প্যাসিফিকবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুনার ভিগান্ড বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ দেখতে চান। এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্য ওলে লুদভিগসন ও জিটে গুতেল্যান্ড ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভের কাছে জানতে চান, ইইএএস কিভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে? কিভাবে আসন্ন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিশ্চিত করতে পারে? এসব প্রশ্ন করার আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওই দুই সদস্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সুযোগ সংকুচিত হওয়ার খবর এবং এ নিয়ে তাঁদের পার্লামেন্টের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, গত বছরের ৬ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সেখানে বেশ কয়েকটি ইস্যুর মধ্যে গুম, নাগরিক সমাজের ওপর ‘দমনপীড়ন’, রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল। ওই দুই পার্লামেন্ট সদস্য বলেন, ওই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর এখনো বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রয়েছে। বিশেষ করে, দুর্নীতির দায়ে প্রধান বিরোধী নেত্রীর সম্প্রতি কারাদণ্ড হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সফরকারী ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধিদল স্পষ্ট বলেছেন, তাঁরা আশা করেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রতিকূলতা কম হবে। অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবেশ সৃষ্টির জন্যও তাঁরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ওই দুই সদস্যের প্রশ্নের জবাবে ইইউর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক হাইরিপ্রেজেন্টেটিভ ফেদেরিকা মগেরিনি গত বুধবার পার্লামেন্টকে বলেছেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম পরিবেশ আছে কি না সে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েই তিনি ইইউর পর্যবেক্ষক পাঠাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস’ গুরুত্ব দিয়ে বলেছে যে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। ইইউ বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সুপারিশ করেছে। ফেদেরিকা মগেরিনি বলেন, ইইউ-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন কাঠামোর আওতায় ‘ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে অব্যাহতভাবে মানবাধিকার ইস্যু, বিশেষ করে গুম ও আইনের শাসনের প্রতি সম্মান জানানোর বিষয়টি তুলে ধরছে। তিনি বলেন, গত ২৪ এপ্রিল ঢাকায় সুশাসন, মানবাধিকার ও অভিবাসনবিষয়ক ইইউ-বাংলাদেশ সাবগ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বিষয় বিশদভাবে আলোচনা হয়েছে। ‘ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস’ গুমের ব্যাপারে উদ্বেগ এবং আইনের শাসন কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।