উত্তম কুমার পাল হিমেল,নবীগঞ্জ থেকেঃ
নবীগঞ্জে ৩ বছরের শিশু আপন চাচাতো ভাই হামজাকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে ঘাতক জুনাইদ। এ ঘটনায় গ্রামবাসী জুনাইদকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়,গত সোমবার সন্ধায় উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের কৃষক রশিদ মিয়ার ৩ বছরের শিশু সন্তান হামজাকে তার চাচাতো ভাই জুনেদ তার ঘরে ডেকে নেয়। কিছু সময় পর হামজাকে ঘরে না পেয়ে তার মা বাবা পাগলের মতো গ্রামের বিভন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও না পেয়ে পরে রাত প্রায় ৯টার দিকে জুনাইদ মিয়ার গাড়ির গ্যারেজ থেকে মুখবাধা অবস্থায় আমির হামজাকে পড়ে থাকতে দেখতে পান তারা।
এমনতাবস্থায় তার মা- বাবা সহ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিকভাবে নবীগঞ্জ- বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আজিজুর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এস.আই. সমীরন চন্দ্র দাশ সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের হামজার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হয় জুনাইদের সাথে। এ সময় জুনাইদের অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্থানীয়দের কাছে ধরা পড়ে যায় জুনেদ।
পরে তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ- বাহুবল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরীর জানান, ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা ওসি সহ একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারনা করছি শিশু হামজাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। হামজার চাচাতো ভাই জুনাইদকে সন্ধেহভাজন হিসাবে আটক করা হয়েছে।
এদিকে এ হত্যাকান্ড কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না নিহত হামজার মা- বাবা সহ এলাকাবাসী। তারা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নবীগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামী গ্রেফতার
উত্তম কুমার পাল হিমেল ,নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকেঃ নবীগঞ্জে নারী নির্যাতন মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী ২৫ বছর বয়সী মিলাদ মিয়া ও চেক ডিজঅনার মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী ৩২ বছর বয়সী কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। অদ্য ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার এসআই কামাল আহমদের নেতৃত্বে এএসআই আবেদসহ একদল পুলিশ উপজেলার হরিপুর এলাকার একটি দোখানে অভিযান চালিয়ে নারী নির্যাতন মামলার আসামী মিলাদ মিয়াকে এবং উপজেলার ১০নং ইউনিয়নের বানুদেব এলাকার একটি দোখানে অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামী কামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মিলাদ নবীগঞ্জ পৌর এলাকার রাজাবাদ কান্দি পাড়া এলাকার কমর উদ্দিনের পুত্র। এবং কামাল হোসেন উপজেলার ১০নং দেবপারা ইউনিয়নের বানুদেব গ্রামের ফজর আলী মেম্বারের পুত্র। মিলাদ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী হিসেবে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। এবং গ্রেফতারকৃত অপর আসামী কামাল চেক ডিজঅনার মামলার ২বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্ত ও ২লক্ষ টাকা অর্থদন্ডপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন সে পলাতক ছিল।
জানা যায়, মিলাদ দীর্ঘদিন আগে উপজেলার ফুটারমাটি এলাকার বাসিন্দা এক গার্মেন্টস কর্মীকে আউশকান্দি এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করলে মামলাটি তদন্তের জন্য নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। ঐ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামী হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অপর আসামী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা হয়েছিল। ২বছরের কারাদন্ড এবং ২লক্ষ টাকা অর্থদন্ডপ্রাপ্ত আসামী সে। উভয়ের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ থানার এসআই (সাব ইন্সপেক্টর) কামাল হোসেন।
মন্তব্যসমূহ (০) কমেন্ট করতে ক্লিক করুন