Bangla Newspaper

আজ হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর শাহাদাত দিবস

268
# সৈয়দ নাজমুল হাসান, ঢাকা ।।

আজ ২১ রমজান। ইসলামের শেষ খলিফা হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর শাহাদাত দিবস। যদিও অনেক সুন্নী আলেম দাবি করেন তিনি ১৮ বা ২০ রমজান ইন্তেকাল করেছেন। তবে শিয়া-সুন্নী উভয় মতেই আলীর শাহাদাতের সাল ৪০ হিজরী। খ্রিস্টীয় পঞ্জিকা অনুসারে তাঁর শাহাদাত হয়েছে ৬৬১ সালের ২৯ জানুয়ারি, আর সুন্নী মতে ২৬ বা ২৮ জানুয়ারি। শাহাদাতকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৩ বছর। হজরত হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাঁর জানাজায় ইমামতি করেন। কুফার নাযাফে তাকে দাফন করা হয়। যেখানে আজও তার মাযার রয়েছে।

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর পিতার নাম হযরত আবু তালিব ও মাতার নাম ফাতেমা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা । তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর চাচাতো ভাই এবং সর্বকনিষ্ট কন্যা সাইয়েদা ফাতেমা জোহরা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার স্বামী। শিশু বয়স থেকে রাসূলের সাথেই থাকতেন তিনি। দারিদ্রের কারনে চাচা হযরত আবু তালিবের পক্ষে যখন সন্তানদের ভরণ পোষণ করা সম্ভব হচ্ছিলো না বলে রাসূল চাচাতো ভাইদের মধ্যে আলীর দায়িত্ব নেন। এরই সুবাদে মহানবী সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর প্রথম স্ত্রী হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহার পর হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হন ইসলামের দ্বিতীয় এবং যুবকদের মধ্যে প্রথম মুসলমান। কৈশোরে ইসলামে দীক্ষা নিয়ে তিনি আদর্শ প্রচারে ব্রতী হন।

হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন প্রবল সাহসী। যেই রাতে মহানবী সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, সেই রাতে  নিহত হওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তিনি মহানবী সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এর বিছানায় শুয়েছিলেন। তিনি  ছিলেন একজন শক্তিশালী যোদ্ধা। ইসলামের পক্ষে অসি হাতে বীরত্বের জন্য মহানবী সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে ‘আসাদুল্লাহ’ (আল্লাহর সিংহ) উপাধি দেন।  এছাড়া তাকে আমেরুন মুমেনীন নামেও ডাকা হতো।  অনেকে নিশ্চয়ই জানেন, ইসলামে তাৎপর্যপূর্ন এক তলোয়ারের নাম জুলফিকার। এক সময় এটি ছিলো এক ‘কাফের’ -এর। তার নাম মুনাবা বিন হাজাজ। বদর যুদ্ধে তাকে মুসলমানেরা হত্যা করে। তখন জুলফিকার মুসলিম সেনাদের নিয়ন্ত্রনে আসলে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম এটি নিজের কাছে রাখেন। ওই যুদ্ধেই হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ৩৬ জন ‘কাফের’ হত্যা করলে রাসূল সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বিশেষ তলোয়ারটি তাকে বিশেষ বীরত্বের জন্য উপহার হিসেবে দেন।

ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর শহীদ হওয়ার পর ইসলামের শেষ খলিফা হন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। খলিফা হওয়া পর তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী মদিনা থেকে ইরাকের কুফায় সরিয়ে নেন।

৪০ হিজরি রমজানের সেই ভোরে ফজরের নামাজ আদায়কালে সিজদারত হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’র ওপর তরবারীর আঘাত হানা হয়েছিলো। আঘাতকারী আব্দুর রাহমান ইবনে মুলযেম ছিলেন ইসলামের তৎকালীন চরমপন্থী ‘খারেজি’ গ্রুপের সদস্য। মূলযাম যখন তার তরবারী বসিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুখ থেকে যে শব্দটি বেরিয়েছিলো, তা ছিলো- ‘কাবার রবের শপথ আমি সফলকাম হলাম।’  পরে গোপনেই দাফন করা হয় হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু’কে।

বর্তমানে ইরাকের কুফার নিকট নাজাফে হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর মাযার রয়েছে।

Comments
Loading...