Bangla Newspaper

কৃত্রিম পায়ে এভারেস্ট জয় অসম্ভব নয় প্রমান করলেন চীনা পর্বতারোহী

162

এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে ফ্রস্ট বাইটে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে দু’টো পা হারাতে হয়েছিল জিইয়া বোয়ুকে। কিন্তু স্বপ্ন পূরণে পিছ পা হননি তিনি কোনদিন । সোমবার সকালে ৭০ বছর বয়সী এই চীনা ২৯ হাজার ২৯ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে এভারেস্টর চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। খবর বিবিসি।

কৃত্রিম পায়ে এভারেস্টের চূড়ায় উঠে রেকর্ড গড়েছেন তিনি। কারণ এর আগে দুই পা নেই এমন কেউ নেপালের দিক থেকে এভারেস্টর চূড়ায় উঠতে পারেননি। ২০০৬ সালে দুই পা হারানো আরেক পর্বতারোহী-নিউজিল্যান্ডের মার্ক ইঙ্গলিস এভারেস্টে উঠেছিলেন তিব্বতের দিক থেকে। সেটাকে অপেক্ষাকৃত সহজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

১৯৭৫ সাল থেকে জিইয়া বোয়ু এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। গত বছর নেপালের সরকার যখন দুইপা কাটা এবং অন্ধদের জন্য এভারেস্টে ওঠা নিষিদ্ধ করে দেয় তখন তিনি চরম হতাশায় পড়ে গিয়েছিলেন।

তবে এ বছর মার্চ মাসে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সরকারের ঐ নিষেধাজ্ঞা বেআইনি ঘোষণা করলে, এপ্রিল মাসে তিনি পঞ্চম বারের মত এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন। অভিযান শুরুর আগে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা আমার স্বপ্ন। আমাকে এই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জ, আমার দুর্ভাগ্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ।’

অবশেষে সোমবার সকালে তিনি তার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হন। জিইয়া বোয়ু ১৯৭৫ সালে তার প্রথম অভিযানে এভারেস্টের চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে ফ্রস্ট-বাইটে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেই অসুস্থতার জেরে পায়ে ক্যান্সার হওয়ায় ১৯৯৬ সালে হাঁটুর নীচ থেকে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।

এরপর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তিনি আবার অভিযানের জন্য নেপালে আসেন, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দুর্ঘটনার জন্য নেপাল সরকার দু’বারই পর্বতারোহণ বন্ধ রেখেছিলো। ২০১৬ সালেও মাত্র ২০০ মিটার ওঠার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। এক বছর পর আবার তিনি আসলেন এবং এভারেস্ট জয় করলেন।

তিনি প্রমান করলেন, মনোবল থাকলে এভারেস্ট জয় অসম্ভব নয়।

Comments
Loading...