মানবতার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

474
gb

এস ই ইসলাম ||


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে সেখানে থেকে উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রিত ও শরণার্থী-ক্যাম্প পরিদর্শণ কালে বক্তব্য রাখেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমরা সকল দেশের সঙ্গে সু-সর্ম্পক রাখতে চাই। নির্যাতন বন্ধ করুন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন’। আর রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে করে বললেন, ‘যতদিন তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেনা ততদিন বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে’। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং তারিখ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিদর্শণ কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা মিয়ানমারের বর্বরতার কাহিনী শুনে কাঁদলেন।
আর্ন্তজাতিক ভাবে পূর্ব কোন সমর্থন ও প্রতিশ্রæতি না পেয়েও বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাজেশন (এ আর এন ও) মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক (প্রায় ৫ লাখ) রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি। এক বিবৃতিকে তারা জানিয়েছেন, আমাদের মতো অসহায় এক জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারময় মুর্হুতে মানবতার প্রথম হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তা বিধানে সকল ব্যবস্থা করবেন এবং কুটনীতিক সহায়তার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ দেশ ফিরে যাবার ব্যবস্থা চলছে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য বলেছেন, ‘আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নাগরিকত্বের অধিকারসহ সব ধরনের অধিকার থেকে তারা বি ত। এই জন গোষ্ঠীর অস্তিত্বের সঙ্কট, নিষ্ঠুরতা এবং উৎখাতের শিকার সিমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার কারনে বাংলাদেশ এ সমস্যায় সরাসরি আক্রান্ত। একমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। এই সমস্যার কারনে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের সবাইকে একত্রে ও এক সাথে করে সন্ধীপের কাছে ঠেঙ্গারচরে সাময়িক ভাবে আশ্রয় দেয়া হবে। এ লক্ষে ইতোমধ্যে সরকার থেকে প্রায় ১০ হাজার একর জমি শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এরই সাথে বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করতে কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে আপাতত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার উখিয়া অ লে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে চলমান জাতিগত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখের বেশী মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ইতিমধ্যে। গত ২৪ আগষ্ট রাখাইন পুলিশ পোষ্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশণ আর্মির হামলার পর সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের ধারনা এবার প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসেছে। লেখক নিজেই এই ঘটনায় কবলিত রোহিঙ্গাদের স্বচোখ্যে দেখে এসেছেন।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে মেনে নিতে ও তারা রাজি নয়।
রবিবার কাজাখস্থানের রাজধানী অস্তনার রাষ্ট্রপতি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ, এরদোগানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতিসংঘের তত্ত¡াবধানে একটি ‘সেফ জোন’ করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহŸান জানান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বনবাদ বিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সূচির প্রতি আহŸান জানিয়েছেন এই ধর্মযাজক এক খোলা চিঠিতে বলেছেন বাধক্য আমাকে গ্রাস করেছে। আমি এখন জরা গ্রস্ত। সব কিছু থেকে অবসর নিয়েছি, আর কিছু বলব না। কিন্তু আজ তোমার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গভীর সঙ্কটে সেই নীরবতা আমি ভাঙ্গছি। ৮৫ বছর বয়সী টুটু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি প্রোষ্টেট ক্যান্সারের ভূগছেন প্রায় দুই দশক ধরে।
সূচীর উদ্দেশ্যে টুটু লিখেছেন হে, ‘আমার ভগ্নি মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারন হয়ে থাকে তার জন্যই সত্যিই বড় বেশী দাম দিতে হচেছ। আমার প্রার্থনা তুমি ন্যায় বিচারের পক্ষে মুখ খোল। মানবতার পক্ষে কথা বলো। দেশের মানুষের ঐক্যের কথা বলো। আমরা প্রার্থনা করি যাতে তুমি হস্তক্ষেপ কর’।
রাখাইনে চলমান সহিংসতার জন্য মুসলিম বিশ্বের তীব্র সমালোচনা সইতে হচ্ছে। গণতন্ত্রের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে ১৯৯১ সালে নোবেল পুরষ্কার জয়ী সূচির দল এখন মিয়ানমারের ক্ষমতায়।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট মিয়ানমারের যুগ যুগ ধরে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের বিষয়ে নীরবতার কারনে পশ্চিমা বিশ্বে সুচীর কড়া সমালোচনা হচ্ছে। এমন কি তার নোবেল পুরষ্কার কেড়ে নেওয়ার দাবী তুলেছে কেউ কেউ। জয় হোক বিশ্ব মানবতার এটিই আমাদের কাম্য।