সিরিয়ার আসাদ সরকারের বিদায় নেয়ার সময় হয়েছে: তুরস্ক

256
gb
জিবিনিউজ ডেস্ক::

সিরিয়ার বাশার আল আসাদ সরকারের বিদায় নেয়ার সময় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসঅগলু। গৌতা ও দোমায় সর্বশেষ রাসায়নিক হামলায় ৮৫ জন নিহত হওয়ার পর গত বুধবার তিনি এ মন্তব্য করেন। তুর্কি মন্ত্রী এমন একটি সময়ে এ কথা বলেছেন, যখন সিরিয়ায় ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা করেছে পশ্চিমারা।

আঙ্কারায় এক অনুষ্ঠানে কাভুসঅগলু বলেন, ‘বাশার সরকারকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। তাদের রাসায়নিক হামলা এই প্রথম নয়। বিমান হামলা ও ব্যারেল বোমায় তারা প্রায় ১০ লাখ লোককে হত্যা করেছে।’ গত ৮ এপ্রিল রাজধানী দামেস্কর নিকটস্থ পূর্ব গৌতা এলাকায় রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হোয়াইট হেলমেট। এলাকাটি দীর্ঘ দিন ধরেই সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দুই মাস ধরে সর্বাত্মক হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। তাদের সহযোগিতা করছে রাশিয়া ও ইরান। এই হামলা শুরুর পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পূর্ব গৌতায় এক মাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস করে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি অগ্রাহ্য করে হামলা অব্যাহত রাখে সিরিয়া।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাশারকে অবশ্যই দেশ ছাড়তে হবে এবং সিরিয়ায় একটি রাজনৈতিক শাসন ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে হবে’। সিরিয়া ইস্যুতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য তিনি সোচি কিংবা আস্তানা সংলাপের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। অতি সত্বর দেশটিতে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও তাগিদ দিয়ে কাভুসঅগলু বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের অধীনে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিয়ায় আমরা আর রক্তপাত ও কান্না দেখতে চাই না।’ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের শুরু থেকেই দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে কাজ করছে তুরস্ক। এ জন্য দেশটি বরাবরই বাশার সরকারের ক্ষমতা ত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।

একই দিন তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নুরুদ্দিন চানিকলি টেলিভিশনে দেয়া এক বক্তৃতায় বলেছেন, ‘সিরিয়ার থেকে সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা এবং সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা- এই দু’টি বিষয় বাস্তবায়িত হলে দেশটিতে শান্তি আসবে এবং আর কোনো রাসায়নিক হামলাও হবে না’।