বার্সেলোনা ভেঙে দিচ্ছে মেসির বিশ্বকাপ স্বপ্ন !

316
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক::

হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ফুটবল রাজপুত্র লিওনেল মেসি। পুরোপুরি সুস্থ হননি এখনো। অথচ তাকে দিয়ে একের পর এক ম্যাচ খেলিয়ে যাচ্ছে বার্সেলোনা। সর্বশেষ শনিবার ক্যাম্প ন্যু’তে লা লিগার দ্বিতীয় ম্যাচে লেগানেসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি। একাই জিতিয়েছেন দলকে। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বার্সেলোনাকে জিততে মেসিকে মাঠে নামতেই হবে। কিন্তু এভাবে কতদিন? গতকাল তাকে মাঠে নামতে দেখেই ক্ষুদ্ধ হয় বার্সাভক্তরা। প্রশ্ন তুলেন, কেন অসুস্থ মেসিকে দিয়েই বার বার খেলানো হচ্ছে? কেন তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে না বার্সোলোনা?

অপরদিকে আর্জেন্টিনা কিন্তু ইনজুরির কারণে ফিফার আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মেসিকে নামায়নি। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচে ২-০ তে সহজেই জিতেছে তারা। পরের ম্যাচ ছিল ইতালির বিপক্ষে। সেই ম্যাচে মেসির মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কোচ স্যামপাওলি। সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘শেষ দুই দিন ধরে দলের সাথে প্রস্ততি সেরেছেন মেসি। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অধিনায়ক হিসেবে তার হাতেই আর্মব্যান্ড থাকতে চলেছে।’

কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয়নি মেসিকে। ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসি দর্শক হয়ে শুধু দেখেছেন।

লেগানেসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন মেসি

অথচ দিন কয়েক পরই বার্সেলোনার হয়ে মাঠে নামানো হয়েছে তাকে। লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে সেদিন বদলি বেঞ্চে বসে ছিলেন মেসি। তাকে ছাড়া দলের বেহাল অবস্থা দেখছিলেন। দুটি গোল খেয়ে বসেছে বার্সেলোনা। এই অবস্থা থেকে টেনে তুলতে অসুস্থ মেসিকে ৫৮ মিনিটে মাঠে নামান কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে। কাজও হয়েছে। মেসি মাঠে নামতেই পুরো দল আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়।

ম্যাচ শেষের মাত্র দুই মিনিট আগে লুইস সুয়ারেজ প্রথম গোল করে। পরের মুহূর্তেই পায়ের জাদু দেখান মেসি। ফিলিপ কুতিনহোর সহায়তায় আর্জেন্টাইন এই তারকা দুর পাল্লার শটে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। ড্র করে বার্সেলোনা।

ম্যাচ শেষে মেসির প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘যখন তোমার দলে মেসি থাকবে এবং সে খেলবে না, তার অর্থ হচ্ছে এর মধ্যে অন্য কোনো গুরুত্ব আছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়।’

কোচের কথার জেরে বলতে হয়, মেসি থাকলে দল জিতবে, তাই বলে কি অসুস্থ মেসিকে দিয়ে খেলিয়েই যেতে হবে?

এরপর রোমার বিপক্ষে পুরো ম্যাচ খেলেন মেসি। সেদিন কোনো গোল না করলেও সহজ জয় পায় বার্সেলোনা।

টানা তৃতীয় ম্যাচে কাল লেগানেসের বিপক্ষে মাঠে নামানো হয় মেসিকে। ফলাফল বার্সেলোনার জয়। তবে কাল যখন মেসি মাঠে নামছিলেন তখন ক্ষোভে ফুসছিলেন সমর্থকরা।

সেভিয়ার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে গোলের পর মেসির উদযাপন

বলা হচ্ছিল, মেসি তো খেলতেই চাইবেন। কিন্তু তাই বলে কি প্রতি ম্যাচেই খেলাতে হবে। তাও ইনজুর থাকা অবস্থায়!

সেটি হয়ত আঁচ করতে পেরেছিলেন কোচ। তাই ম্যাচ শেষে ইঙ্গিত দিলেন। মেসিকে হয়ত পরের ম্যাচে নামনো হবে না। বিশ্রামে রাখা হবে।

আগামী মঙ্গলবার ম্যাচ রয়েছে বার্সেলোনার। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘মেসি রোমার বিপক্ষে পুরো ম্যাচে খেলেছেন। আর সেভিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্থে। তার কিছু সমস্যা রয়েছে। তাই দেশের হয়ে খেলছেন না। তবে তিনি সব সময় খেলতে চান। কারণ সে সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু আমরা তার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলব।’

মেসি কী সিদ্ধান্ত নেন – সেটাই এখন দেখার ব্যাপার। কারণ বিশ্বকাপ শুর হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। জুনেই শুরু হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। যদি এখনই মেসিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দেয় বার্সেলোনা। তাহলে বিশ্বকাপে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা দেখে দিবে। এই সময়ের মাঝেই তাকে ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে সবকিছু করতে হবে। কারণ এইবারই শিরোপাজয়ের শেষ সুযোগ ফুটবল রাজ্যপুত্রের। বার্সেলোনার মান রক্ষা করতে গিয়ে সেই স্বপ্ন যেন অধরাই রয়ে না যায়।

 

বদলি বেঞ্চ থেকে এসে শেষ মুহূর্তে মেসির গোল

লা লিগায় নাটকীয় ম্যাচে শেষ তিন মিনিটে দুই গোলে সেভিয়ার সাথে অবশেষে ২-২ গোলের স্বস্তির ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা। আর যথারীতি ম্যাচে বার্সেলোনার ত্রানকর্তা ছিলেন লিওনেল মেসি। এই ড্রয়ের মাধ্যমে মৌসুমে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখলো কাতালান জায়ান্টরা।

সেভিয়ার মাঠ রামোস সানচেজ পিজুয়ানে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বার্সেলোনা যখন পরাজয়ের ক্ষণ গুনছিল তখনই ম্যাচ শেষের মাত্র দুই মিনিট আগে লুইস সুয়ারেজ প্রথম গোল করে বার্সাকে কিছুটা হলেও জাগিয়ে তোলে। কিন্তু পরের মিনিটেই মেসির গোল সফরকারীদের যে এভাবে রক্ষা করবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি আক্রান্ত মেসিকে নিয়ে কোন ধরনের ঝুঁকি নিতে চাননি বার্সা কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দে। সে কারণেই মূল একাদশে তাকে বিবেচনা করেননি বার্সা বস। ৫৮ মিনিটে অবশ্য ওসমানে ডেম্বেলের স্থানে মেসিকে বদলি বেঞ্চ থেকে নিয়ে আসা হয়। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা ভালভার্দের সামনে অবশ্য এর বিকল্পও ছিল না।

এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত কোনো লীগ ম্যাচে পরাজিত হয়নি বার্সেলোনা। একইসাথে গত ১৩ মাস যাবত তারা অপরাজিত রয়েছে। কিন্তু ফ্র্যাংকো ভাজকুয়েজ ও লুইস মুরিয়েলের গোলে সেভিয়া দারুণ এক জয়ের পথেই এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আবারো মেসি দলের ট্রাম্প কার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ফিলিপ কুতিনহোর সহায়তায় ম্যাচ শেষের মিনিটখানেক আগে যখন আর্জেন্টাইন এই তারকা দুর পাল্লার শটে দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তখন তার উদযাপনটাও একটু ভিন্ন ছিল। গোল দিয়েই মেসি দৌঁড়ে গিয়ে ডাগ আউটে কোচিং স্টাফ ও বদলি বেঞ্চের সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেন।

ম্যাচ শেষে ভালভার্দে বলেছেন, ‘যখন তোমার দলে মেসি থাকবে এবং সে খেলবে না, তার অর্থ হচ্ছে এর মধ্যে অন্য কোন গুরুত্ব আছে। সে এমন একজন খেলোয়াড় যাকে দিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায়।’

গত বছর এপ্রিলে মালাগার বিপক্ষে পরাজিত হবার পরে এই নিয়ে টানা ৩৭টি লীগ ম্যাচে অপরাজিত থাকলো বার্সেলোনা। এই রেকর্ডে ১৯৮০ সালে রিয়াল সোসিয়েদাদকে স্পর্শ করতে আর মাত্র এক ম্যাচ দুরে রয়েছে কাতালান জায়ান্টরা।

(১ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদ)