কাতারে জাল আকামায় কপাল পুড়লো মহেশপুরের কামালের !

399
gb

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

দিন মজুর ও নিজের অল্প জমিতে খেটেখুটে বেশ ভালই চলছিলো হতদরিদ্র কামালের। এরপর নিজ গ্রামের আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলুর প্রলোভনে পড়ে বিদেশে পাড়ি জমান কামাল। সেখানে ১০ মাস কোন কাজ পাননি। এক পর্যায়ে জাল আকামা লাগিয়ে দেন রুহুল আমিন রুলু। ধরা পড়ে বহিস্কার হন কাতার থেকে। বৈদেশি মুদ্রা অর্জন করে নিজের ভাগ্য ফেরানোর স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায় কামালের। এখন বিদেশে নিয়ে প্রতারণা ও টাকা উদ্ধারের আশায় বিভিন্ন স্থানে ঘুরছেন কামাল হোসেন। কামাল হোসেন মহেশপুর উপজেলার ঘুগরি গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, আমি মাঠে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। ঘুগরি গ্রামের নবিছদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল গনি বিশ্বাস তাকে বিদেশে নিয়ে যেতে প্রলুব্ধ করেন। কাতারে ভাল চাকরী ও উচ্চ বেতনে কাজ করার লোভ দেখায় আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু। দক্ষ না হলেও ২০১৭ সালের ১ মার্চ টেকনিশিয়ান ভিসায় তাকে কাতারে নিয়ে যান রুহুল আমিন। এর আগেই তার শ্যালক আব্দুল গনির মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা। আরব আমিরাতের জি-৯৮৫৭ নং ফ্লাইটে কাতারে পৌছালে বিমান বন্দর থেকে কামালকে নিয়ে যান রুহুল আমিন। কামাল অভিযোগ করেন, সেখানে আমাকে প্রায় ১০ মাস কোন কাজ দিতে পারেনি রুহুল আমিন। উপরন্ত সে আমাকে জাল আকামা লাগিয়ে দেয়। বিদেশে আমার উপর দুঃসহ নির্যাতন নেমে আসে। কাজ নেই। খাওয়া নেই। বাধ্য হয়ে আমি বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করে দিন কাটাতে থাকি। জাল আকামা দেখে তারা আমাকে ওই দেশ থেকে বহিস্কার করে। প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে গিয়ে আদম ব্যাপারী রুহুল আমিন রুলু শেষ পর্যন্ত আমাকে কোন পাত্তায় দিতো না। উপায় না পেয়ে আশ্রয় গ্রহন করি আমার এলাকার এক ভাই ঘুগরি গ্রামের রসুল বিশ্বাসের ছেলে মফিজ উদ্দীনের কাছে। তিনিও কাতার থাকেন। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারী মফিজ ভাইয়ের সহায়তায় আমি দেশে ফিরে আসি। দেশে ফিরে আমি প্রতারণা, জাল আকামা ও দক্ষ না হালেও টেকনিশিয়ান ভিসা পাঠিয়ে বিদেশে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রতিকার ও সমুদয় টাকা ফেরতের দাবী জানাতে থাকি গনি বিশ্বাসের কাছে। তিনি আমাকে টাকা ফেরতের আশ্বাসও দেন। এরপর থেকেই আমি একের পর এক ঘুরতে থাকি তার পেছনে। এখন গনি বিশ্বাস টাকা ফেরত তো দুরের কথা, উল্টাপাল্টা হুমকী দিচ্ছে। কামাল আরো জানান, তিনি সুবিচার চেয়ে পান্তাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে অভিযোগ করবেন। বিষয়টি নিয়ে মহেশপুরের পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর রফিউদ্দীন খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, টাকা উদ্ধারে সামাজিক ভাবে অনেক বার বসা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল গনি বিশ্বাস ও তার ভগ্নিপতি রুহুল আমিন রুলু টাকা ফেরৎ দেওয়ার নামে ঘুরাচ্ছে।