যশোর চৌগাছা পুলিশের ইয়াবা কেলেংকারি প্রতিবাদে বাজার ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

366
gb

বদরুদ্দিন বাবুল, যশোর প্রতিনিধি :
যশোরের চৌগাছা বাজারে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামানসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে। পরে দুই পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। অন্যদিকে, থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে চৌগাছা বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে বিক্ষোভ করছেন ব্যবসায়ীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শহরের স্বর্ণপট্টিতে সেনকো জুয়েলার্সের মালিক রবিন সেনের ছেলে রাজন সেন ওরফে বাপ্পির (২৫) কাছে ‘ইয়াবা ট্যাবলেট আছে’ বলে দোকান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক কামরুজ্জামান, সহকারী উপ-পরিদর্শক আকবর আলী এবং কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। সে সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান অ্যাডমিরালের উপস্থিতিতে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এসআই কামরুজ্জামান নিজের পিস্তল বের করেন। এসময় উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা দোকানের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে এসআই কামরুজ্জামানকে আটকে ফেলেন। অন্য দুইজন এএসআই আকবর এবং কনস্টেবল নাজমুল কোনোক্রমে দোকান থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনা শুনে বাজারের শত শত ব্যবসায়ী ওই দোকান ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সহায়তায় থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসআই কামরুজ্জামানকে উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে, এঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে দুপুর দুইটার সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনসহ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই আকবর এবং কনস্টেবল নাজমুলকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাজারের সব দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দোকান ও সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখে পুলিশের বিরুদ্ধে সমিতির সভাপতি এসএম শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান অ্যাডমিরালের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল চলছিল।
চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘থানার ওসিসহ ঘটনায় সম্পৃক্তদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত চৌগাছা বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।’
যশোর ক সার্কেলের এএসপি শেখ নাঈমুর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। চৌগাছার স্বর্ণপট্টির ঘটনা শুনেছি।’
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘অন্য একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে কনস্টেবল নাজমুলকে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। স্বর্ণপট্টির ঘটনায় এসআই কামরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
ব্যবসায়ী সমিতির দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে ২০১৬ সালে চৌগাছা বাজারের আরেক ব্যবসায়ীকে দোকানের মধ্যে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় এসআই সিরাজসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৭ সালেও উপজেলার খড়িঞ্চা বাজারে ফেনসিডিল দিয়ে এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর ঘটনায় স্থানীয়দের দাবিতে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।