সেকেন্ডারী স্কুলের আসন হারানোর মুখে অসংখ্য পরিবার অভিভাবকরা বেচে নিতে পারেন লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমীকে

307
gb
ইব্রাহিম খলিল সিনিয়র রিপোর্টার ||

সেকেন্ডারী স্কুলে সন্তানের অধ্যয়নের সুযোগ করে দেয়া অভিভাবকদের জন্য একটি বড় সিদ্ধান্তের বিষয়। এ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মানসম্পন্ন তথ্য সম্বলিত উপদেশ ও নির্দেশনা সংশ্লিষ্টদেরকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করে দিতে পারে। অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের জন্য উচৃুঁ মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে আগ্রহী। কিন্তু, এটাই একটি যথাযথ স্কুল বেছে নেয়ার জন্য যথেষ্ট  |


স্ট্যাট স্কুলগুলো নানা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আত্তিকরণ করছে এবং ভাল মানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ব্যাপারে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। পুথিঁগত জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্পকলা চর্চ্চায় শিক্ষার্থীদের যথাযথ সহায়তা প্রদান এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ স্কুলগুলো ভূমিকা রাখে। অভিভাবকরা চান স্কুলে তাদের সন্তানরা নিরাপদ থাকুক। তারা চান, তাদের সন্তানরা স্কুল গুলো যেন শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশ ও অর্জনের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশ যেন স্কুলগুলো নিশ্চিত করে।

লন্ডন এন্টারপ্রাইজে আমরা যা করে থাকি :
অফস্টেডের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীরা টেকসই অগ্রগতি লাভ করে এবং অগ্রজরা এ অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা আরো বলেছেন- শিক্ষার্থীরা নিরাপদ এবং উৎপীড়নের ঘটনা খুবই নগন্য।
স্কুলের আসন বিন্যাসের জন্য গত ১ মার্চ ছিল ‘ন্যাশনাল অফার ডে’। অনেক পরিবারই তাদের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানগুরো নিশ্চিত করে রেখেছেন। কিন্তু, লন্ডনের অনেক শিক্ষার্থীই তাদের প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় পছন্দের স্কুর নির্ধারণ করতে পারেনি। জাতীয়ভাবে ৮৩.৫ শতাংশ শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের প্রথম পছন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু, লন্ডনে এ পরিসংখ্যান মাত্র ৬৬ শতাংশ। ২০১৭ সালের তুলনায় প্রায় ৪ হাজার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পর্যায়ে তাদের আসনের জন্য আবেদন করেছে। অনেক শিক্ষার্থীরই মাধ্যমিক পর্যায়ের আসন নিশ্চিত হয়নি। এ কারণে তাদের আরেকটু অনুসন্ধান্ত করা প্রয়োজন এবং যে সব স্কুলে আসন খালি আছে সেগুলো পরিদর্শণ করা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ সততার পরিচয় দেয়না। বরং, যে সব স্কুলে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারেই তারা নির্দেশনা দিয়ে থাকে। কিন্তু, এ স্কুলগুলো সবচেয়ে কাছের স্কুল বা শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা স্কুল নাও হতে পারে।
আমি লক্ষ্য করেছি, অনেক প্রাথমিক স্কুল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে থাকে এবং অভিভাবকদের বিপথে পরিচালিত করে। কিন্তু, বর্তমানে তাদের আওতার বাইরে থাকায় এসব স্কুলও সেসব অভিভাবককে আসন প্রদান করতে পারছেনা। ৫টি শিশু আছে এমন পরিবারগুলোকে প্রাইমারী স্কুলের ট্রানজিশন টিমকে এ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা প্রয়োজন যে, তারা যেন পরিবারগুলোকে যথাযথ পক্ষপাতবিহীন পরামর্শন প্রদান করে।
এ কারণে অভিভাবকদেরকে স্কুলগুলোতে সম্ভাব্য আসনের জন্য ফোন কলা করা বা ইমেইল করা উচিত। অনেক সময় লন্ডনের স্কুলগুলোতেও আসন শূন্য থাকে। কারণ, অনেক পরিবারই তাদের আবাসস্থল পরিবর্তন করে থাকেন (অনেক ক্ষেত্রে আবাসন বরাদ্দের কারণে পরিবারগুলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যান)।
টাওয়ার হ্যামলেট্স এর মতো বরায় একাডেমী বা ফ্রি স্কুলগুলো রাজনীতিবিদ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জনপ্রিয় হয়না। অথচ আমার প্রতিষ্ঠিত স্কুলটির মত এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত আসনসহ মানসম্মত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী।
আমাদের একটি ছোট্ট স্কুল রয়েছে, যার শ্রেণী কক্ষগুলোও ছোট ছোট- কিন্তু, আমাদের লক্ষ্য সুবিশাল। আমাদের শিক্ষকরা সুশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত। আমাদের অতিরিক্ত দিবস রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও দক্ষতা অর্জনের কর্মকান্ডের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমী ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হোয়াইট চ্যাপেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার যাত্রা শুরু করে। আমরা এখন প্রথম বারের মত জিসিএসই-তে আমাদের কৃতিত্ব প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের স্কুলে রয়েছে কলা শাখার বিশেষ ব্যবস্থা, একটি সুবিন্যস্ত কারিকুলাম, একদল নিবেদিত প্রাণ দক্ষ শিক্ষক, অনেকগুলো আকর্ষণীয় এনরিচমেন্ট প্রোগ্রাম এবং নিয়মিত পাঠ বহির্ভূত শিক্ষামূলক কার্যক্রম।
স্বল্প সময়ে আমরা যে সব কৃতিত্ব অর্জনে সক্ষম হয়েছি তার মধ্যে রয়েছে-
মোজাইক এন্টারপ্রাইজ চ্যালেঞ্জ-২০১৭ তে আমরা লন্ডনের ২৫৫টি স্কুলের মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জনে সক্ষম হয়েছ্ ি
আমাদের নবম শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থী স্টেপ আপ ইংরেজী পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আমাদের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে  এক চতুর্থাংশেরও বেশী শিক্ষার্থী ডিইক অব এডিনবরা বোঞ্জ পদক অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ইউকে ম্যাথ্স-এ স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ এওয়ার্ড অর্জন করেছে।
অনেক শিক্ষার্থী দক্ষতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মেনসা-হাই আইকিউ সোসাইটিতে যোগদান করেছে।
আমাদের শিক্ষার্থীরা অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, ইউসিএল, কুইন মেরি, ইউইএলসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শণ করেছে।
নিয়মিত দৈনন্দিন ভ্রমণের পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা বার্সিলোনা, ব্রাসেল্স এবং নরফোকসহ বিভিন্ন স্থানে রেসিডেন্সিয়াল ট্রিপে অংশ নিয়েছে।
২০১৪ সালে মাত্র ৯৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে আমাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১৫ জনে উন্নীত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আমাদের স্টাফ সংখ্যা ১৪ জন থেকে ৭০ জনে উন্নীত হয়েছে।
আমাদের ২৮টি শ্রেণী কক্ষ, একটি ফিটনেস স্যুইট এবং স্পোর্ট্স সেন্টার রয়েছে।
অনেকগুলো চ্যারিটি ইভেন্টের জন্য আমরা বছরে ফান্ড রাইজিং করে থাকি।
আমাদের শিক্ষার্থীরা অনন্য পেশাগত নির্দেশনা লাভ করে থাকে এবং কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকে।
আন্তঃস্কুল স্পোর্টস ইভেন্টে আমাদের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে।
জ্যাক পেচি স্পিক আউট ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা পদক অর্জন করে কৃতিত্ব প্রদর্শণ করেছে।
আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের গড় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকে বেশী অগ্রসর।
২০১৯ সালের জিসিএসই-তে আমাদের কৃতিত্ব স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের গড় ফলাফলের চেয়ে ভাল হবে বলে আমরা আশাবাদী।
২০১৭ সালে আমাদের সম্পর্কে অফস্টেডের এক মন্তব্যে বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীরা টেকসই অগ্রগতি লাভ করে এবং অগ্রজরা এ অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা আরো বলেছেন- শিক্ষার্থীরা নিরাপদ এবং উৎপীড়নের ঘটনা খুবই নগন্য।
এটি আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবকক ও পরিচালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল বলে আমরা মনে করি।
যদি টাওয়ার হ্যামলেট্স এলাকার অধিবাসী কোন অভিভাবক তার সন্তানের জন্য এখন পর্যন্ত মাধ্যমিকের আসন নিশ্চিত করতে সক্ষম না হন, তাহলে তাকে আমাদের স্কুল পরিদর্শণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। এর ফলে তিনি আমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। ৭ম ও ৮ম শ্রেণীতে আমাদের কিছু আসন খালি আছে।  খালি আসনগুলো আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয়া হবে।