উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

401
gb

 জিবিনিউজ24 ||মো:নাসির, বিশেষ প্রতিনিধি

কোরিয়ার ওপর এ‘যাবৎকালের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হয়েছে—গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘোষণা দিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তাঁর কাছ থেকে জানা না গেলেও রয়টার্স জানায়, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরে চলাচলকারী কোনো জাহাজ উত্তর কোরিয়ার নিষিদ্ধ পণ্য বহন করছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সন্দেহভাজন সব জাহাজে তল্লাশি চালানোর আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র।  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত শুক্রবারের ভাষণে বলেন, ‘আমরা আজ এযাবৎকালের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি, যা আগে কোনো দেশের ওপর আরোপ করা হয়নি। ’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নিষেধাজ্ঞায় যদি কাজ না হয়, তবে আমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ে যেতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়টা সম্ভবত খুব কঠোর কিছু হবে। ’ দ্বিতীয় পর্যায়টা কী হবে, সেটা তিনি নিজে খোলাসা না করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভ মন্যুচিন নিশ্চিত করেছেন, উত্তর কোরিয়া পণ্য লেনদেনের জন্য যত জাহাজ ব্যবহার করছে, আক্ষরিক অর্থে সেগুলোর সবই নতুন নিষেধাজ্ঞা আওতায় পড়বে।

পরদিন শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ার পাইয়েওংচ্যাংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি, প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) আগের প্রশাসনের মতো ভুল করবেন না এবং নমনীয়তা বা দুর্বলতা দেখাবেন না। ’

পাইয়েওংচ্যাং অলিম্পিককে ঘিরে উত্তর কোরিয়া তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াও স্থগিত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে পাইয়েওংচ্যাং অলিম্পিক নিয়ে যে আশার বাতিটুকু জ্বলে উঠেছিল, সেটা দ্রুতই নিভছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। শীতকালীন অলিম্পিকের শেষ মুহৃর্তে এসে যুক্তরাষ্ট্র জানাল, তারা উত্তর কোরিয়ার ওপর কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।    এ ছাড়া উত্তরের সীমানা প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ায় ঠিক একই সময় নিজের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পকে পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা পর রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তো বটেই, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ অন্য আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছে যুক্তরাষ্ট্র। সাগরপথে পিয়ংইয়ংয়ের বাণিজ্যিক লেনদেনকে সর্বোচ্চ চাপের মধ্যে ফেলার জন্যই এ আলোচনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমনিতেই নিঃসঙ্গ পিয়ংইয়ংয়ের ওপর এ চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের পরমাণু কর্মসূচি ঠেকানোটাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

উত্তর কোরিয়ার একমাত্র শক্তিশালী মিত্র চীন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের তৎপরতার ব্যাপারে তারা কিছু জানে না। এদিকে রাশিয়া গতকাল উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরগুলভ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, কোরীয় উপদ্বীপ নিয়ে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য এ ইস্যুতে রুশ-আমেরিকান সক্রিয় আলোচনা জরুরি। ’

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে উত্তর কোরিয়ার আর মাত্র কয়েক মাস লাগবে। যদিও উত্তর কোরিয়া গত ডিসেম্বরেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রান্তে হামলা চালাতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত বছরজুড়েই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাগিবতণ্ডা চলছিল। অব্যাহত ছিল পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপও। কিন্তু তাতে দমেনি তারা। এখন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা পিয়ংইয়ংয়ের ওপর কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে