মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে মানুুষের দুর্ভোগ

192
gb

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি  ||

মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়াদিঘি হাওরের রাজনগর, জুড়ী, বড়লেখা এবং সদর উপজেলার বন্যা পানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে গেছে। তবে পানি কমলেও এসব এলাকার মানুষ পানিবাহিত রোগসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন। দিন যত যাচ্ছে ততবৃদ্ধি পাচ্ছে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা।
বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট এর অন্যতম কারণ। বন্যার্তদের খাবার পানি বিশুদ্ধ করার জন্য দেয়া হচ্ছে ওষুধ,তাও আবার চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। আর রান্না ঘর ডুবে যাওয়ায় বিকল্প পদ্ধতিতে রান্নার কাজে নিত্য প্রয়োজনীয় রান্না ছাড়া পানি ফোটানোর সুযোগও পর্যাপ্ত নেই। অন্যদিকে টয়লেটগুলো পানিতে ডুবে যাওয়া চরম স্যানিটেশন সংকট।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজয় ইন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, কুশিয়ারার পানি মৌলভীবাজারের শেরপুরে বিপদসীমার ৭সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কাউয়াদিঘি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী দিয়ে নেমে যায়। তবে কুশিয়ারার পানি কাশিমপুর অংশে পানি যাচ্ছে ধীরগতিতে। তাই কাউয়াদিঘি হাওর থেকে পানি নামতে পারছে না। তারপর ও পানি আগের চেয়ে কম আছে। কুশিয়ারার পানি দ্রুতগতিতে নামতে পারলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সবমিলিয়ে আগের তুলনায় পানি অনেক কমেছে। রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকুল দাশ জানান, ১০থেকে ১২দিন আগে টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে প্লাবিত হয় অর্ধশত গ্রাম। এর মধ্যে রাজনগর উপজেলার ইসলামপুর, অন্তেহরি, সোনাপুর, বেতাগঞ্জ, বিলবাড়ি, শাহবাজপুর ও গোবিন্দপুর এলাকায় মানুষ বেশি বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। এসব গ্রামের নিচু জায়গায় আগে থেকেই পানি থাকলেও ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়ার পানি আসায় কাউয়াদিঘি হাওরের পানি দেড় থেকে দুই ফুট বৃদ্ধি পায়। ফলে শত শত বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে। তলিয়ে যায় কাঁচাপাকা রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও রোপা আমনের বীজতলা।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় অন্তহরি আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ কারণে বন্ধ রয়েছে ওই সব বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। একই সঙ্গে বন্যায় ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের পানি উঠেছে। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে।
কুলাউড়া ভুকশিমইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, হাকালুকি হাওরের পানি আগের চেয়ে কমেছে। তবে পানি কমলে ও রাস্তাঘাটের বেহালদশা। মানুষের দুভোর্গের শেষ নেই। আর পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাওরবাসী।
জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, দফায় দফায় এ জেলায়
বন্যা দেখা দিচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক দফা ত্রাণ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান,বন্যদুর্গতদের জন্য ২৪টন চাল ও নগদ ১৪লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলা ্স্বাস্থ্য বিভাগের ্উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্¥দ ইকবাল হোসেন এর নেতৃত্বে সদর উপজেলা ্স্বাস্থ্য প,প.কর্মকর্তা ডা; বিমেন্দু ভৌমিক সহ সেবার তৈরী নিয়ে বন্যার্তদের বিশুদ্ধ খাবার পানি ও দরকারি ওষুধ দেয়া হচ্ছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্¥দ ইকবাল হোসেন জানান, বন্যাার পাানি কমার পরও সদর উপজেলা ্স্বাস্থ্য বিভাগের এ ধরনের কার্যক্র্রম অব্যাহত থাকবে
সমাজসেবা অধিদপ্তর সুত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যান পরিষদ জেলার ৭টি উপজেলার প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ ও অসহায় ১,১১২টি পরিবারের জন্য ২৭লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার অনুুদান প্রদান করে। সদর মৌলভীবাজার উপজেলার ৩০০ পরিবারের জন্য ৩ লাখ টাকা, বড়লেখা উপজেলার ১৭৫ পরিবারের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জুড়ি উপজেলার ১৫০ পরিবারের জন্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, রাজনগর উপজেলার ১২৬ পরিবারের জন্য ৩ লাখ ৭৮হাজার টাকা, কুুলাউড়া উপজেলার ১৫০পরিবারের জন্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কমলগঞ্জ উপজেলার ১০০ পরিবারের জন্য ৩ লাখ টাকা, শ্রীমংগল উপজেলার ১০০ পরিবারের জন্য ৩ লাখ টাকা। জেলায় বন্যায় প্র্রান হারিয়েছে ১১ পরিবারের মধ্যে ৫৫ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার জেলার ৭টি উপজেলার ৩৩ টি ইউনিয়নের ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩০০শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫শত ১৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বন্যাকবলিত ২শত ৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ আছে। বন্যায় আউশ ও রোপা আমনের ৯শত ৫৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রসস্থ করেছে।