বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়

701
gb

আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ইপিএ’ জানিয়েছে, বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান-বিষয়ক প্রতিবেদনটি গত ২৩ জানুয়ারি প্রকাশ করেছে ইপিএ।

সংস্থাটি বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। তাতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।

এ প্রসঙ্গে ‘পরিবেশ বাঁচাও অন্দোলন- পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, বাতাস দুষণের কারণে জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে। বিশেষকরে শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত অসুস্থতা দেখা দেয়। তাছাড়া বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্রকনা ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিষ্ক, যকৃত এসবকে ক্রমশ আক্রান্ত করে ফেলে।

আবু নাসের খান মনে করেন, বায়ু দূষণের জন্য যান্ত্রিক যানবাহন, ইটের ভাটা বা কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য তো অবশ্যই দায়ী। তবে, বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষ যাদের অবহেলার কারণে বাযূ দূষণ ক্রমশ বাড়ছে তারাও এজন্য দোষী।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত গণমাধ্যমকে বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় সরকার নির্মল বায়ুর জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেই টাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বহুতল ভবন, সড়কে উন্নত মানের ফুটওভার ব্রিজ, অনেক কর্মকর্তার বিদেশ সফর হয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই তথ্য প্রমাণ করছে দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ ইটভাটায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রযুক্তি নেই। সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ চলার সময় তাতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম উদ্যোগ বা পানি পর্যন্ত ছিটানো হচ্ছে না।

বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে নেপাল, তারপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও কঙ্গোর নাম উঠে এসেছে। আর নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে বার্বাডোজ, জর্ডান, কানাডা ও ডেনমার্ক।

পরিবেশ বিজ্ঞানীদের গৃহীত মানদণ্ড অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ ১০০ মাত্রার বেশী হলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক ও খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।

Source :parstoday.com