বাঁকুড়ার শিল্প ঐতিহ্য

427
gb

মধুলীনা কলকাতা ||জিবি নিউজ টোয়েন্টিফোর ||

প্রথমে দক্ষ হাতে অসাধারণ সব মূর্তি ও নকশা আঁকেন শিল্পীরা। তারপর বানানো হয় মাটির মূর্তি। মাটির মূর্তি গুলো শুকিয়ে বা পুড়িয়ে তার উপর গালা কিমবা মোমের আবরণ দেওয়া হয়। এরপর গালা দিয়ে আগেই আঁকা সুন্দর সুন্দর নকশা করা হয়, তার উপর আবার সূক্ষ্ম মাটির প্রলেপ, শুকিয়ে গেলে মোটা মাটির প্রলেপ দিয়ে রোদে শুকানো হয়। মাটির মূর্তি গুলোয় ছিদ্র তৈরি করে ভরে দেওয়া হয় ব্রোঞ্জ বা পিতলের চূর্ণ। তারপর কয়লার আঁচে পোড়ানো হয় মূর্তি গুলো। গালা বা মোম গলে বেরিয়ে যায়, ওই জায়গা ভরাট করে গলে যাওয়া ধাতু। তারপর আগুন থেকে তুলে ঠান্ডা করা হয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে হাতুড়ি দিয়ে পোড়া মাটি ভেঙে ভেঙে বের করা হয় ধাতব মূর্তিগুলো। এরপর প্রয়োজন মত পালিস করে নেওয়া হয়। তবে বড় মূর্তি হলে, ব্রোঞ্জ বা পিতলের চূর্ণ না, চ্যানেলে তরল ধাতু ঢালা হয়। মূলত নানান হিন্দু দেবদেবী, দানব ও পশুপাখির মূর্তি বানানো হয়। এছাড়া নানা রকমের নতুন নতুন নকশাও করা হয়।

বাঁকুড়া জেলার বিকনা, শিল্পগ্রাম নামেও পরিচিত, বর্তমানে প্রায় ষাটটি পরিবার এই ডোকরা শিল্পের সাথে যুক্ত। বছরের পর বছর ধরে কমেছে শিল্পীর সংখ্যা, অর্থাভাবে কেটেছে প্রতিটা দিন, পেশা বদল করেছেন অনেকেই। কিন্তু আজ আবার ডোকরা শিল্পের জৌলুস ফিরেছে, হাসছেন শিল্পীরা। তাদের সাথে কথাবার্তায় উঠে এল সুদিনের গল্প, সারাবছর কাজ থাকে, উপার্জন হয় মোটা টাকাও। সরকার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, নানা সরকারি মেলায় বিনা পয়সায় বসতে দিচ্ছে সরকার, বিশ্ব বাংলার স্টলে বিক্রি হচ্ছে ডোকরার সব মূর্তি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে রাজ্যের নানা প্রান্তে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে, তুলে ধরা হচ্ছে গ্রাম-বাংলার নানা কুটিরশিল্পের কথা। 

হাতে বানানো কি অসাধারণ সব সৃষ্টি! ভারতে মেটাল কাস্টিং এর উজ্জ্বল ইতিহাস। মহেঞ্জোদারো সভ্যতার ধ্বংশাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্রোঞ্জের তৈরি ‘The Dancing Girl’ এক অনন্য নজির। মধ্যভারতের এই ডোকরা শিল্পের প্রায় দুশো বছরের ইতিহাস। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও হচ্ছে খানিকটা, তবে ধীর গতিতে। বাঁকুড়ার বিকনা ছাড়াও বর্ধমানের দরিয়াপুরেও বেশ কিছু ডোকরার বাস। বিকনার ডোকরা শিল্পী যুদ্ধ কর্মকার সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি পুরষ্কার পেয়েছেন তাঁর নির্বাক করা সব মূর্তির জন্য।