সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ- যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সাতক্ষীরা সরকারি শিশু সদনের চার ছাত্রকে বহিস্কার

312
gb

 

এম.শাহীন গোলদার,সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবার থেকে চার ছাত্রকে বহিস্কার করাহয়েছে। তাদের শিক্ষা ও আবাসন মেয়াদ থাকা সত্তে¡ও তাদেরবহিস্কার করার ঘটনায় প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আজবৃহস্পতিবার জেলা নাগরিক সমাজ এর প্রতিবাদ জানিয়ে তাদেরফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন কর্মসূচির ডাকদিয়েছে।বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্যপ্রকাশ করে বহিস্কৃত চার ছাত্র জানায় তাদের বিরুদ্ধে কোনোসুনির্দিষ্ট প্রমানযোগ্য অভিযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ তাদেরপরিবারের কাছে কেবলমাত্র শৃংখলা ভঙ্গের যুক্তি দেখিয়ে বহিস্কারেরচিঠি পাঠিয়েছে। বহিস্কার আদেশ প্রত্যাখ্যান করে ফের শিশুসদনে ঢুকলে তাদেরকে পুলিশে দেওয়া হবে বলেও ভয় দেখানোহয়েছে। বহিস্কৃত ছাত্ররা হচ্ছে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাতক্ষীরারধুলিহর গ্রামের আবদুল করিম, আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামেরমুরশিদ গাজি, যুগিপোতা গ্রামের এখলাছুর রহমান ওপাটকেলঘাটার শেখ সবুজ হোসেন। সরকারি বিধি মোতাবেকশিশু সদনে তাদের থাকার মেয়াদ আট মাস থেকে চার বছর এখনওসামনে রয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরাসরকারি শিশু পরিবারে ১০০ শিশুর আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও কর্তৃপক্ষেরঅব্যবস্থাপনা, শিশুদের খাদ্য ও শিক্ষায় যথাযথ সহায়তা নাকরা,শিক্ষকদের রুঢ় আচরন এমনকি তাদের ওপর যৌন নির্যাতনের

ঘটনায় এখন সদনে ৫০ জনেরও কম ছাত্র রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষককর্মচারিদের ১৭ টি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৯ জন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানায় ‘ আমাদের ওপর যৌন নির্যাতন,প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়া, খেতে না দেওয়া, আত্মীয়
স্বজনের সাথে দেখা করতে না দেওয়া সহ নানা বিষয়ে আমরাকর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। এর ফলে আমাদের ওপর
নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। হঠাৎ করে গত ৫ ফেব্রæয়ারিআমাদের বাড়িতে আমাদের চারজনকে বহিস্কারাদেশ পাঠানো হয়’।সংবাদ সম্মেলনে ছাত্ররা আরও জানায় ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই শিশুসদনে নানাবিধ অনিয়মের পাশাপাশি আমাদের বন্ধুদের ওপর ভয়ংকর
যৌন নির্যাতন চালিয়েছিল চারজন কর্মকর্তা কর্মচারি।আমরা এর প্রতিবাদ করলে কয়েকজন কর্মচারিকে কেবলমাত্রবহিস্কার করেছিল কর্র্তৃপক্ষ। আবারও সেই পুরনো রাগ এবংক্ষোভের নতুন বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন সদন কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়যৌন নির্যতিনের প্রতিবাদ করলে শিশুদের দিয়ে শিশুদের মারপিটকরানো হয়। আর এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করলে উপ-তত্ত¡াবধায়কমো.জামালউদ্দিন পুলিশ ডেকে আমাদের গ্রেফতারের ভয় দেখান।তারা অভিযোগ করে আরও জানায় ২০১৭ সালের ৩০ জুলাইয়ের যৌন
নির্যাতন বিষয়ক ঘটনাবলীর পর আট মাস পার হলেও দোষীরা শাস্তিপায়নি। উল্টো শিশুদের বহিস্কার করছেন তারা।তাদেরকে বহিস্কারের কারণ জানতে চাইলে সরকারি শিশু সদন থেকেজানানো হয় ‘তাদের বিরুদ্ধে শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ আছে। শিশু
পরিবার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেকতাদের বহিস্কার করা হয়েছে’। এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবাকর্মকর্তা দেবাশীষ সরদার জানান,তাদের বিরুদ্ধে শৃংখলা ভঙ্গেরনানা অভিযোগ আছে।এদিকে মেয়াদ থাকার পরও চার শিশুকে বহিস্কার করার প্রতিবাদে
সাতক্ষীরায় বৃহস্পতিবার মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে জেলা নাগরিক সমাজ।