বিয়ানীবাজারে চেয়ারম্যান কতৃক মুক্তিযোদ্ধার কন্যা নির্যাতনের প্রমাণ মিলেনি

3,115
gb

মুকিত মুহাম্মদ, বিয়ানীবাজার ||
বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে কথিত নির্যাতনের ঘটনা ভিন্নমোড় নিয়েছে। ইউপি কার্যালয়ে সেদিন কি ঘটেছিল তা জানতে উদগ্রীব সবমহল। কোন পরিকল্পনায় মুক্তিযোদ্ধা কন্যা ইউপি কার্যালয়ে চাল আনতে গিয়েছিলেন কিংবা কারা এর পিছনে কলকাঁঠি নাঁেড়, তাও গত ক’দিনে প্রকাশ হতে শুরু করেছে। অবশ্য মুক্তিযোদ্ধা কন্যাকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য কর্তৃক কথিত নির্যাতনের ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে চলমান প্রশাসনিক তদন্তে চেয়ারম্যান কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা কন্যাকে নির্যাতনের কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে বিভিন্ন সূত্র।
গত ১৭ডিসেম্বর বিকেলে মুড়িয়া ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে সরকারী ত্রাণের চাল আনতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কন্যা রুইতুন নেছা। তাঁকে চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গালিগালাজ করে লাথি মেরে বারান্দায় ফেলে দেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম তাঁেক বাশের লাঠি দিয়ে বেদম প্রহার করে অচেতন করে ফেলেন। এতে তিনি আহত অবস্থায় বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসা নেন এবং পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভর্তি হন। অভিযোগপত্রে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন রুইতুন নেছা। তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলীর মেয়ে এবং বড়দেশ গ্রামের আব্দুল খালিকের স্ত্রী।
এ ধরণের অভিযোগ সর্বত্র প্রচার হলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড এবং মুক্তিযোদ্ধারা বিক্ষোভ শুরু করেন। মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা মুক্তিযোদ্ধার কন্যাকে কথিত নির্যাতনের ঘটনা মিথ্যা এবং পরিকল্পিত উল্লেখ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে দাখিল করা অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তীকে। তিনি বাদী-বিবাদী দু-পক্ষকে ডেকে পাঠান। জানা যায়, ধার্য্য তারিখে অনুপস্থিত থেকে সময় প্রার্থণা করেন বাদী রুইতুন নেছা। এদিন চেয়ারম্যান আবুল খায়ের এবং ইউপি সদস্য আব্দুল কাইয়ুম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থিত হয়ে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। পরবর্তী তারিখে বাদী রুইতুন নেছা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিবরণ দেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, ‘তদন্তে এখনো পর্যন্ত বাদী রুইতুন নেছাকে নির্যাতনের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ত্রাণ বিতরণে প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বানিন রায় জানান, ‘এদিন ইউপি কার্যালয়ে কোন মহিলাকে নির্যাতন করা হয়নি। বরং ওই মহিলাই সংশ্লিষ্টদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।’ তিনি আরো জানান, ‘চাল বিতরণের সময় কয়েক দফা মুক্তিযোদ্ধা কন্যা রুইতুন নেছা সিরিয়াল ভেঙ্গে আগে চলে আসেন। তখন চেয়ারম্যান সাহেব তাকে লাইনে দাঁড়াতে বলেন। এরপর ওই মহিলা চেয়ারম্যানের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।’
ইউপি কার্যালয়ে সেদিন অবস্থান করা সদস্য মো: নাজিম উদ্দিন জানান, ‘ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধা কন্যা রুইতুন নেছাকে কেউ মারধর করেনি। সমস্থ ঘটনা পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। আমরা এ ধরণের ঘটনার পিছনে যারা ছিল তাদের খুঁজছি।’
মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের জানান, ‘আমার সাথে ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে একটি পরাজিত মহল এমন ঘটনা সাজিয়েছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা রেবিয়ে আসবে। যারা এ ধরণের অপপ্রচার করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘সহজ-সরল রুইতুন নেছাকে ব্যবহার করে নির্বাচনী ফায়দা নেয়ার এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ বিব্রত হয়েছেন। ত্রাণ বিতরণের সময় তাকে নির্যাতন করার প্রশ্নই ওঠেনা।’ আবুল খায়ের বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আমি ইউপি কার্যালয়ে সম্মানীত মুক্তিযোদ্ধাগণের নামের তালিকা স্থায়ীভাবে টানিয়ে রেখেছি। আমি তাঁদের সম্মান জানাই। তাছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের আজীবন সদস্য হিসেবে তাঁদের সবধরণের সহযোগীতা অব্যাহতি রেখেছি।’