যানজটহীন একটি দিন

মহিপাল ফ্লাইওভারের সুফল পাচ্ছেন চালকরা

422
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক || দেশের প্রথম ৬ লেনের মহিপাল ফ্লাইওভারের সুফল পেতে শুরু করেছেন পরিবহন চালকরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বৃহস্পতি ও শুক্রবার মহিপালে যানজট চোখে পড়ত। কিন্তু শুক্রবার সকালে ও দুপুরে ফ্লাইওভার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কোথাও কোনো যানজট নেই। আধা মিনিট থেকে পৌনে এক মিনিটের মধ্যে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ফ্লাইওভার অতিক্রম করে চলে যাচ্ছে গন্তব্যের দিকে।শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ভারী ট্রাকচালক আব্দুর রশিদ বলেন, এ এলাকা অতিক্রম করতে আমরা হিমশিম খেতাম। বেশিরভাগ সময় যানজট লেগে থাকত। বিশেষ করে বৃহস্পতি ও শুক্রবার বেশি সমস্যা হতো। কিন্তু আজ অতি অল্প সময়ে ফ্লাইওভার পেরিয়ে গন্তব্যে যেতে পারছি।মহিপাল ফ্লাইওভারের উত্তর প্রান্তে জেলা মৎস্য খামার এলাকায় শান্তি পরিবহনের বাসচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, এটি চালু হবার পর মহিপালের চিরচেনা দৃশ্যই যেন পাল্টে গেছে। মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো এলাকায় চলে এসেছি। তিনি বলেন, এর ফলে যান চলাচল আরো সহজ হবে। পরিবার নিয়ে মাইক্রোবাসে চেপে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছেন ব্যবসায়ী রহমত আলী। তিনি ‘কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ফ্লাইওভারের ফলে এখন মনে হচ্ছে যেন যান চলাচলে গতি এসেছে। সময় অনেকটা বেঁচে যাচ্ছে।

মহিপালে প্রায় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন সার্জেন্ট মৃদুল। তিনি বলেন, এখানে যানজট সামলাতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এখনো এ এলাকা পুরোপুরি যানজটমুক্ত হয়ে গেছে- এটা বলা যাবে না। তবে এটি চালু হওয়ার ফলে অনেকটা যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

সিএনজি চালকদের দাবি মহাসড়ক পারাপার
এদিকে গত কয়েক বছর ধরে মহিপালে মহাসড়ক পারাপারে সিএনজি অটোরিকশার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এবার চালকরা দাবি জানিয়েছেন পারাপারের অনুমতির। চালক আব্দুর রশিদ বলেন, আমি বেশিরভাগ সময় দাগনভূঞা থেকে ফেনী পর্যন্ত গাড়ি চালাই। কিন্তু মহিপালে মহাসড়ক অতিক্রমের অনুমতি না থাকায় অনেক সমস্যা হয়। যাত্রীদের পশ্চিম পাড়ে নেমে সড়ক পেরিয়ে আবার পূর্ব পাড়ে গিয়ে অন্য গাড়ি ধরতে হয়। এতে চালক-যাত্রী উভয়ের ভোগান্তি।

মহিপাল থেকে বসুরহাট এলাকায় সিএনজি অটো চালান জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেক সময় রোগীরা ডাক্তার দেখাতে ফেনী শহরে যান। কিন্তু মহাসড়ক অতিক্রমের সুযোগ না থাকায় অনেক সময় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিসিক রোড হয়ে বা সার্কিট হাউজ হয়ে ঘুরে যেতে হয়। ফলে একদিকে সময় নষ্ট হয়, অন্যদিকে ভ্রমণ ব্যয়ও বেড়ে যায়। তিনি মহাসড়ক পারাপারের অনুমতি প্রদানের দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে মহাসড়কে সিএনজি অটো পারাপার বন্ধ রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর মন্ত্রী ফ্লাইওভার পরিদর্শনে এলে পারাপারের অনুমতি এবার হবে কীনা-এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁকে প্রশ্ন করেন। তবে এর উত্তরে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি এবার বিবেচনা করা হবে।