বিদায়ী বছরে রেকর্ড সংখ্যক নারী ধর্ষণ

409
gb

জিবিনিউজ ডেস্ক //

বিদায়ী বছরে নারীদের অর্জন কম নয়। কিন্তু সেই অর্জন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে রেকর্ড সংখ্যক নারী ধর্ষণের ঘটনায়। বাদ যায়নি শিশুদের উপর নির্যাতনও। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে  অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৪ হাজার ৫৩৮ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা সব চেয়ে বেশি। রয়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, উত্যক্তকরণ, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, শ্লীলতাহানির মত ঘটনাও। যেগুলো বার বারই উঠে এসে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নারী নির্যাতনের বিষয়টি এখনো রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে না। যে কারণে চোখের সামনে নির্যাতনের ঘটনা দেখলেও সবাই তা মেনে নিচ্ছে। দুর্বল আইনের শাসনও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তাই এ ধরনের সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে, নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন আর পেশিশক্তির প্রভাবের কারণে সমাজে নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি আর ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী গতবছর থেকে এই বছর নারী নির্যাতনের হার বেড়েছে ৫৮ শতাংশের বেশি। চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত নারী নির্যাতনের সংখ্যা ৯ হাজার ১৯৬ টি। এর মধ্যে ৬৮ ভাগ ঘটনাই নথিভুক্তই হয়নি। সব ধরনের নির্যাতনকে ছাপিয়ে গেছে ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলো। চলতি বছরে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা ১ হাজার ৭৩৭ টি। শুধু তাই নয় শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পরে হত্যার ঘটনা এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ভয়ঙ্করভাবে। বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৩৯৯ জন শিশুকে ধর্ষণ করা হয়, যাদের মধ্যে ৫৮ শিশু হয়েছে গণধর্ষণের শিকার এবং এদের মধ্যে ৩৭ জন প্রতিবন্ধী শিশু।
নারী নির্যাতনের ঘটনা বাদ দিলে ছিল অনেক আশা জাগানিয়া খবরও। স্বপ্রণোদিত একঝঝাঁক কিশোরীর উদ্যোগে দেশব্যাপী বাল্য বিয়ে ঠেকানোর ঘটনা বছরজুড়েই আলোচিত হয়েছে। আরো ছিল তৃণমূল থেকে উঠে আসা দেশের নারী ফুটবলারদের জয় আর দু’জন নারী পাইলটের যুদ্ধবিমান চালনা। দুই নারী পাইলট জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে গিয়েও বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছেন।