গাছ কাটার পর এবার কাটা গাছের মোড়া তোলে নিলেন অধ্যক্ষ!

125
gb

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।

নিয়মবহির্ভূত ভাবে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে কলেজের অভ্যান্তরে বনবিভাগের অনুমতি না নিয়ে গাছ কাটার অভিযোগ উঠায় তা সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এ নিয়ে রীতিমত তুলপাড় সৃষ্টি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন অধ্যক্ষ।

এবার গাছ কাটার বিষয়টি শেষ হতে না হতেই ভোরে সেই গাছের মোড়াও তোলে নিলেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী।

জানা যায়,শুক্রবার (১৯জুন) ভোরের দিকে গাছের মোড়া তার নির্দেশে তোলে নেয়া হয়। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাছের মোড়া তোলে নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। কলেজের সাবেক শিক্ষক, জেলার সচেতন মহল, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাবেক শিক্ষার্থীরা নানা সমালোচনা করছেন। অধ্যক্ষের এমন কর্মকান্ডে তারা হতবাগ।

ইতিমধ্যে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। বেশ কয়েকটি সংগঠন এর প্রতিবাদও জানিয়েছে।

সরেজমিন শুক্রবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, গার্ড মুক্তার আলী ও মাষ্টার রোল শ্রমিক শফিকের তত্ত¡াবধানে বিজ্ঞান ও স্কাউট ভবনের পূর্ব পাশ থেকে ১৮/২০ জন শ্রমিক তড়িঘরি করে গাছের মোড়া তোলে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এগুলো কার নির্দেশে তোলা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা বলে, “প্রিন্সিপাল স্যারা এগুলো তোলার জন্য বলেছেন”। এসময় দেখা যায় অধ্যক্ষ্যের বাস ভবনের মেইন ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষ্যের স্ত্রী কর্মচারী মুক্তার ও শফিককে ফোনে নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর শ্রমিকরা অনেকটা তড়িঘরি করে কয়েকটা মোড়া ফেলে চলে যায়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপার) কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ও মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়কারী নাট্যজন আ.স ম সালেহ সুহেল বলেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কখনো গাছ কাটা অনুমোদন করেনা সুতরাং আমরা বিষয়টি নিয়ে সুষ্টু তদন্ত দাবী করছি,কারন তদন্ত হলেই পুরো বিষয়টি বেড়িয়ে আসবে। তিনি বলেন, একটি গাছ কাটলে যেখানে ১০টি গাছ লাগাতে হয় সেখানে কোন আইনের তোয়াক্কা না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছ কাটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী’র ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।