রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত আসলাম ফকির ফের হত্যা মামলায় গ্রেফতার

67
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক ।।

রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমায় সাহেব চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড হতে মওকুফ পাওয়া সেই আসলাম ফকিরকে (৫০) আবারও একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রবিবার সকাল ৬টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার কলেজপাড়ার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮ এর একটি দল। এরপর তাকে ফরিদপুর ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। আসলাম ফকির ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত শুকুর ফকিরের ছেলে।

র‌্যাব-৮ সিপিসি-২, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি হিসেবে আসলাম ফকিরকে যশোরের চৌগাছা থানার কলেজপাড়া থেকে রবিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ভাঙ্গা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও জানান, ভাঙ্গা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে শহীদ শেখ (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগে গত ২২ এপ্রিল আসলাম ফকিরের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় আবারও একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

দেবাশীষ কর্মকার জানান, গত ২২ এপ্রিলের পর থেকে আসলাম ফকির কমপক্ষে পাঁচবার স্থান বদল করে। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজেকে একজন প্রবাসী পরিচয় দিয়ে চৌগাছার কলেজপাড়ার ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে উঠেন তিনি। আসলাম ফকির অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন। তার আগেই র‌্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০০৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গার মানিকদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সাহেদ আলী ওরফে সাহেব মিয়া হত্যা মামলায় আসলাম ফকির ও অপর দুই আসামি তারা মৃধা ও ইমারত আলীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত। আসামিদের আপিলে হাইকোর্টে এ রায় বহাল রাখে।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর আসলাম ফকিরের ফাঁসি কার্যকরের দিন ধার্য হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল সার্জনসহ সকলকে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতও থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও ফাঁসির একদিন আগে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তার ফাঁসি স্থগিত হয়ে যায়। ওইদিন দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন তিনি। এরপর সাধারণ ক্ষমায় তার ফাঁসি মওকুফ করে ১৪ বছরের সাজা দেয়া হয়। কারাগারে সদাচরণের কারণে সাজা কমিয়ে ১৩ বছর দুইদিন কারাভোগের পর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট গাজীপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে মুক্তি পান আসলাম ফকির।

জানা গেছে, আসলাম ফকিরকে মুক্ত করার বিষয়ে সুপারিশ করেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী জাফরউল্লাহ। তার একাধিক সুপারিশের কারণেই আমলাম ফকির মুক্তি পান। এ ছাড়া মুক্তি পাওয়ার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাকে কাজী জাফরউল্লাহর পাশে দেখা গেছে। তিনি সব সময় কাজী জাফরউল্লাহর সঙ্গে থাকতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি নিজ এলাকায় এসে আবারও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হন। এরপর আবার তার হুকুমে আরও একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন