২০ বাঁকে ৫ বছরে নিহত ৬০০

344
gb

জিবিনিউজ24 ডেস্ক:

উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কের মধ্যে বগুড়ার ৭৪ কিলোমিটারে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, বাঁক ও মোড় মিলিয়ে ২০টি বিপজ্জনক স্থান। গত পাঁচ বছরে এসব স্থানে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৬০০ মানুষের।

আহত হয়েছে আট হাজার। এদের মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ পঙ্গু হয়েছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা এবং হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি এলাকাকে মারাত্মক বিপজ্জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এসব এলাকার যানবাহনের গতি কমিয়ে ধীরগতিতে যাওয়ার জন্য নির্দেশনাও রয়েছে। কিন্তু ফিটনেসবিহীন গাড়ির নিয়ন্ত্রণ অনভিজ্ঞ চালকের হাতে থাকায় প্রাণ দিতে হচ্ছে নিরীহ যাত্রীদের।

গত পাঁচ বছরে শেরপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উত্তরের সীমান্তবর্তী নয়মাইল, দশমাইল, গাড়ীদহ, মহিপুর, পৌর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড, ধুনট মোড়, কাঁঠালতলা, শেরুয়া বটতলা, কৃষ্ণপুর, মির্জাপুর, আমবাগান, ছোনকা, ঘোগা বটতলা, ঘোগা ব্রিজ, ধনকুণ্ঠি ও দক্ষিণের সীমান্তবর্তী সীমাবাড়ী থেকে শুরু করে বগুড়ার উত্তর প্রান্ত গোকুল, মহাস্থানগড় ও মোকামতলায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে অসংখ্য গর্ত ও ফাটল রয়েছে। দুর্বল সড়ক দিয়ে আগের মতোই ৯০-১২০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চলে।

প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে দেখা গেছে, গত দেড় বছরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর জনতার দাবি মেনে নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২২টি গতিরোধক নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া এসব এলাকায় ২০টি মারাত্মক বাঁক রয়েছে। রয়েছে ছয়-সাতটি হাট-বাজার, ১৮-২০টি জনবহুল স্থান ও দুই পাশ থেকে মহাসড়কে ওঠার জন্য ৪৫টির মতো সংযোগ সড়ক। হাইওয়ে পুলিশ গতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আধুনিক যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে চিহ্নিত যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

চিহ্নিত স্থানে দুর্ঘটনা রোধের বিষয়ে বগুড়া জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সেখ বলেন, ‘মহাসড়কের ধুনট মোড়ে দুই দিকে গতিনিরোধক নির্মাণ করা জরুরি। চলতি সপ্তাহে এখানে ট্রাক ও টেম্পোর সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। ’ একই কারণে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে গতিনিরোধক নির্মাণ দাবি করেন শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক।

মৈত্রী পল্লী উন্নয়ন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার মনে করেন, মহাসড়কের ওপর বা দুই পাশ ঘিরে গড়ে তোলা হাট-বাজার অথবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনমাফিক গতিনিরোধক নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া মহাসড়ক দিয়ে একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য নতুনভাবে সড়ক নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে।

শেরপুর থানা ট্রাক বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা আবু রায়হান বলেন, ‘সবার ঊর্ধ্বে ক্রুটিমুক্ত যান এবং এর চালক। চালককে অবশ্যই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। ’

বগুড়া সড়ক বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৫ সালে বগুড়ার মাঝিড়া পয়েন্টে গণনা করে দেখা গেছে, প্রতিদিন ১৭ হাজার যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল করেছে, যা সড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন হাজার একক বেশি। দুই বছর পর গাড়ির সংখ্যা এখন বেড়েছে।

বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মামলা করেও ক্রটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ কারণে এসব যানবাহনের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা চিন্তা করছি। ’ প্রাণহানির বিষয়ে বলেন, ‘চালকরা একটু সতর্ক হলেই রক্ষা পায় অনেক প্রাণ। ’