৬ এপ্রিল জাগপা’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী করোনা মোকাবেলায় প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য ও সংহতি

59
gb
5

 

আগামীকাল ৬ এপ্রিল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা’র ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। জাতীয় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেকে সামনে রেখে ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিগন্তে জাগপা আত্মপ্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের বীর সেনানী শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে। এই দিনে রমনার সবুজ চত্বরে সাংবাদিক সম্মেলনে পার্টির নাম ও কর্মসূচী ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাগপা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাত রবিবার (৫ এপ্রিল) গুমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে দলের প্রতিষ্ঠাতা, আজীবন সংগ্রামী জননেতা শফিউল আলম প্রধান, পরবর্তী সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের অমর স্মৃতির প্রতি গভীরতম শ্রদ্ধা জানিয়ে দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভাকাংখীদের উদ্দেশ্য বলেন, সময়ের আওয়াজ শুনতে হবে, বুঝতে হবে। এখন খেলবার দিন নয়, প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অঙ্গিকার হউক, স্বাধীনতা রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।

জাগপা নির্মানে আজীবন যারা লড়েছেন নেতৃদ্বয় তাদের সকলের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।

একই সাথে নেতৃদ্বয় বলেন, করোনারমত মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশও আজ চরম বিপাকে মধ্যে রয়েছে। মানুষের মধ্যে চলছে আতংক। করোনার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ সংকটে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অত্যান্ত জরুরি। বৈশ্বিক মহামারী করোনা সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষায় সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জন্য ‘জাতীয় ঐক্য ও সংহতির’ কোন বিকল্প নাই।

উল্লেখ্য, ১৯৭৪’র ৩০ শে মার্চ তদানীন্তন আওয়ামী শাসকদের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার সংগ্রামের পটভূমিতে মত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শফিউল আলম প্রধানসহ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার ও ফাঁসিতে ঝুলানোর ষড়যন্ত্র হয়। ৭৫’র আগষ্ট ও নভেম্বরে গণ-সিপাহী অভ্যুত্থানের পটভূমিতে ১৯৭৮ সালে শফিউল আলম প্রধানসহ হাজার হাজার দেশপ্রেমিক কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। “কোন কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া হবে না” এ অঙ্গিকার নিয়ে ১৯৮০’র ৭ই জানুয়ারি ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় জাগপা গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর জাগপার ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও গৌরবের ইতিহাস ১৯৫৭’র ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উদযাপন। আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে টানা লড়াই, দেশকাপানো দহগ্রাম, বেরুবাড়ী গণমিছিল, সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলের দাফনকে কেন্দ্র করে শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংরক্ষিত গোরস্থান মোটাদাগে জাগপা’র আন্দোলনের ফসল। বাংলাদেশ রাষ্ট্র পত্তনের পর প্রায় সকল সরকারের আমলেই জাগপা জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কারণ জাগপা নীতির প্রশ্নে আপোষ করে না, আপোষ মানে না, আধিপত্যবাদী আগ্রাসনে বিপন্ন স্বাধীনতা, কুরুষবিদ্ধ গণতন্ত্র, ক্ষতবিক্ষত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মজলুম মানুষের অধিকার রক্ষায় জাগপা জীবন বাঁজি রেখে লড়ছে লড়বে। স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রনাঙ্গনের মুখোমুখি লড়াইয়ে জাগপা’র তরুণ নেতা মাসুদ রায়হান শহীদ হয়েছেন।

করোনার কারণে জাগপা’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহিত সকল কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচী পালন করা হবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন