ভারতের প্রখ্যাত শিল্পসমালোচক শ্রী মৃণাল ঘোষের লেখা ‘নাজমা আক্তার-এর ছবি মূর্তের অমূর্ত রূপ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে

171
gb

মো:নাসির, জিবি নিউজ ২৪

ভারতের প্রখ্যাত শিল্পসমালোচক শ্রী মৃণাল ঘোষের লেখা ‘নাজমা আক্তার-এর ছবি মূর্তের অমূর্ত রূপ’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী নাইমা ইসলাম নাজ ও অনিমা রায়ের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম পর্বে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও স্থপতি সামসুল ওয়ারেস এবং জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, চিত্রকলা, চারুকলা, জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকর্তাসহ নাজমা আক্তারের শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

পরে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফজলুর রশীদের সঞ্চালনায় বইটি নিয়ে আলোচনা সভায় অতিথিরা ‘নাজমা আক্তার-এর ছবি মূর্তের অমূর্ত রূপ’ বইয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিমূর্তধারার চিত্রশিল্পী নাজমা আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একজন শিল্পী হয়ে ছবি আঁকা যত সহজ কিন্তু প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠা অনেক কঠিন কাজ। এই কঠিন কাজটাই আমি দীর্ঘ দিন ধরে করে একজন প্রকৃত শিল্পী হয়ে উঠার চেষ্টা করেছি।

নাজমা আক্তার বলেন, আমি আমার চিত্রকর্ম নিয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে গিয়েছি। অনেকের কাজ দেখেছি,এতে আমার অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করার সুবাদেই প্রখ্যাত শিল্পসমালোচক শ্রী মৃণাল ঘোষের নজরে আসা। তিনি আমার কাজ দেখে মুগ্ধ হন এবং আমার কাজ নিয়ে বই লেখেন।

তিনি আরো বলেন, আমার এই শিল্পী হওয়ার পেছনে অনেকর অবদান রয়েছে। তবে প্রথমেই পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এরপর যারা অনুপ্রেরণা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে সাহয্য করেছেন তাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ জানাই। এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য এখানে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

স্থপতি সামসুল ওয়ারেস বলেন, নাজমা আক্তারের চিত্রকর্ম বিমূর্ত চিত্রশিল্প ও বিমূর্ত ভাবধারার প্রকাশ পেয়েছে। অনেক বিষয় আছে যা মনে থাকে কিন্তু লিখে প্রকাশ করা যায় না। সেটা রঙ ও তুলির আচরে প্রকাশ ঘটে। একটা ভাব প্রকাশ করে। মনের ভাষাটা ছবিতে প্রকাশ করে। নাজমা তার চিত্রশিল্পে যে ভাবধারার সৃষ্টি করেছে সেটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তার শিল্পকর্ম মনে প্রশান্তি আনে। ছবি, ভাব, বিষয়বস্তু সব কিছুতে একটা আলাদা অর্থ বহন করে। তার ছবিতে বোধ আছে, আনন্দ, বেদনা, কল্পনার বিশাল জগত আছে। আশা করছি বইটি সবাইকে মুগ্ধ করবে।

অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, নাজমার ছবিতে আমরা বাংলাদেশকে খুঁজে পাই। তার চিন্তা-ভাবনা, রঙ, বিষয়বস্তু সব কিছুতে বাংলাদেশ ফুটে উঠে। বইটিতে নাজমার সব শিল্পকর্ম ধাপে ধাপে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তার চিত্রকর্মের একটা আলাদা ছন্দ আছে। নিজস্বতা আছে। বিমূর্ত শিল্পকলায় মুহূর্তকে নিপুণভাবে গতিময়তা ও সঞ্চালনা দিয়ে ছবিগুলো এঁকেছেন।                       সহধর্মীনীর প্রশংসা করে অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, নাজমা কলেজ জীবন থেকেই অবিরাম চেষ্টা, অধ্যবসায় আর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ছবি এঁকে আসছেন। আমাদের পরিবারটা সব সময়ই নাটক, সিনেমা, চিত্রকর্ম এসব বিষয় নিয়ে মেতে থাকে। ছেলে, ছেলের-বউ, নাজমা সবাই এসব খুব বেশি পছন্দ করে। নাজমার এই পর্যন্ত আসার পেছনে পরিবারের সবারই অবদান রয়েছে। তবে আজকের নাজমার এ সম্মানটা তার প্রাপ্য। এই অনুষ্ঠানে এসে অনুষ্ঠানকে সার্থক করে তুলার জন্য বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, চিত্রকলা, চারুকলা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী, কর্মকর্তাসহ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

‘নাজমা আক্তার-এর ছবি মূর্তের অমূর্ত রূপ’ বইটি একুশে বই মেলায় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে পাওয়া যাবে।

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন