ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ডিআইজি, পঞ্চায়েত কমিটির কাছে ৫ লাশ হস্তান্তর

বড়লেখায় স্ত্রী-শ্বাশুড়িসহ ৪জনকে হত্যার পর যুবকের আত্মহত্যা

51

জিবিনিউজ 24 ডেস্ক //

মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাল্লাতল চা বাগানে রোববার ভোরে ঘটে যাওয়া ঘটনার শোক এখনো কাটিয়ে ওঠতে পারেননি বাগানের চা শ্রমিকরা। আজ সোমবার কাজের দিন হলেও তাদের মধ্যে ছিলো না প্রাণচাঞ্চল্য। গোটা বাগান জুড়েই দেখা গেছে শোকের ছায়া।

এদিকে বড়লেখার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাল্লাতল চা বাগানের ঘটনাস্থলটি সোমবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান। এসময় তার সাথে ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, সিলেটের সহকারী পুলিশ সুপার (রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়) গৌতম দেব, বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক, উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন প্রমুখ।

এদিন সন্ধ্যায় মৃত পাঁচজনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পাল্লাতল চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে রাতে চা বাগানের আট নম্বর শ্মশান ঘাটে তাদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে ঘটনার দিন রাতেই পাল্লাতল চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় পৃথক দুইটি মামলা করেন। যার মধ্যে একটি হত্যা মামলা অপরটি অপমৃত্যু মামলা।

এদিকে সোমবার সারাদিন বড়লেখার পাল্লাতল চা বাগান এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজের দিনেও বাগানে কোনো কর্মচঞ্চল নেই। অনেকেই প্রতিদিনের মতো কাজে সক্রিয় নেই। চায়ের ফ্যাক্টরিও বন্ধ। চা শ্রমিক পরিবারের লোকজনদের চোখেমুখে বিষণ্ণতার ছায়া। এরকম ঘটনা আগে কখনোই দেখেননি পাল্লাতল চা বাগানের শ্রমিকরা। এই ঘটনার আকস্মিকতায় প্রায় সকলেই বাকরুদ্ধ। বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছিলেন নারী চা শ্রমিকরা। সবার কথার মধ্যেই ছিল আহাজারি।

বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কার্তিক কর্মকারের। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটিতে সবাই মর্মাহত। সোমবার বাগানের কাজের দিন। কিন্তু ঠিকমত কেউ কাজে যোগ দেয়নি। শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে সবাই। অনেকের ঘরে রান্নাবান্নাই হয়নি। খাবার খেতে মন চাইছেনে। কেউ এই ঘটনাটি ভুলতে পারছে না।’

 

উল্লেখ্য, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী, শাশুড়ি এবং দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যা করেন নির্মল কর্মকার (৩৮) নামের এক ব্যক্তি। এরপর ঘরের তীরের সাথে রশিতে ঝুলে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভোররাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পাল্লাতল চা-বাগানে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হচ্ছেন নির্মল কর্মকারের স্ত্রী জলি বুনার্জি (৩০), শাশুড়ি লক্ষ্মী বুনার্জি (৬০), প্রতিবেশী বসন্ত বক্তা (৬০) এবং বসন্ত বক্তার মেয়ে শিউলী বক্তা (১৪)। হামলায় বসন্ত বক্তার স্ত্রী কানন বক্তাও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় কোনোরকম পালিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে জলি বুনার্জির আগের স্বামীর পক্ষের মেয়ে চন্দনা বুনার্জি (৯)। ঘটনার সময় সব হারিয়ে বেঁচে যাওয়া চন্দনা এখন বাগানের ফ্যাক্টরি বাবু অঞ্জন দাসের পরিবারের আশ্রয়ে আছে।

বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক সোমবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু ও একটি হত্যা মামলা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পঞ্চায়েত কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এই ওয়েবসাইটটি আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করে। আমরা ধরে নিচ্ছি যে আপনি এটির সাথে ঠিক আছেন তবে আপনি চাইলে অপ্ট-আউট করতে পারেন Accept আরও পড়ুন