লন্ডন ব্রিজ শুটআউটে নিহত ‘হামলাকারী’ পাকিস্তানের উসমান

45
gb

জিবি নিউজ ২৪

যুক্তরাজ্যের লন্ডন ব্রিজে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত সেই হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ব্রিটেনের মেট্রোপলিট্রন পুলিশের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের বার্তা সংস্থা দ্য ডনে প্রকাশিত এক সংবাদের তথ্য মতে, নিহত হামলাকারীর নাম উসমান খান। তিনি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ নাগরিক।

শুক্রবারের ওই সন্ত্রাসী হামলার সময় ছুরিকাঘাতে ২ জন নিহত হন। এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় হামলাকারী উসমান। 

বার্তা সংস্থা বিবিসি জানায়, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাতে লন্ডন ব্রিজের উত্তরের অংশে একটি হলে চলতে থাকা অনুষ্ঠানে হামলার সূত্রপাত হয়। এ সময় ধারালো ছুরি নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তির ওপর হামলা চালায় উসমান। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ। কিন্তু হামলাকারী সে সময় নিভৃত না হলে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। যাতে হামলাকারী উসমান খান নিহত হয়। হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে নিহতদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী। তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

লন্ডন পুলিশ দাবি করেছে, শনিবার (৩০ নভেম্বর) স্ট্যাফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক উসমানকে লন্ডন ব্রিজের হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। পুলিশ সূত্রে সে দেশের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা উসমানের কৈশোর কেটেছে পাকিস্তানে। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক সনদ নেই তার। মা অসুস্থ হওয়ায় ওই সময় সে পাকিস্তানে অবস্থান করেন। পরে লন্ডনে ফিরে ইন্টারনেটে উগ্রবাদ প্রচারে নামে।

পুলিশের দাবি, উসমান আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-কায়েদার ভাবাদর্শে বিশ্বাসী। ২০১০ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের হামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ১৬ বছরের জেলও হয় তার। গত বছরই সে প্যারোলে মুক্তি পায়। তবে ২০১২ সালে সাজা ঘোষণার সময় উসমান খানকে ‘একনিষ্ঠ জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেন বিচারক। সে সাধারণ মানুষের জন্য বিপজ্জনক বলেও জানান তিনি। শর্তসাপেক্ষে ২০১৮ সালে জেল থেকে ছাড়া পায় উসমান। ডিসেম্বর মাসে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই সে স্ট্যাফোর্ড এলাকায় বসবাস করছিল।                       এ প্রসঙ্গে দেশটির প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে লন্ডন ব্রিজের কাছে ঐতিহাসিক ফিসমোঙ্গার হলে ‘লার্নিং টুগেদার’ নামের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন উসমান। লন্ডন ব্রিজে দুইজনকে হত্যা করার পর স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পুলিশ উসমানকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় সে বিস্ফোরকবোঝাই স্যুইসাইডাল ভেস্ট পরিহিত ছিল বলেও দাবি করেন তারা।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More