সাক্ষীকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প

39
gb

মো:নাসির, জিবি নিউজ ২৪

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে অভিশংসন তদন্তের শুনানি চলাকালীন অবস্থায় ইউক্রেন কাণ্ড নিয়ে টুইটারে এক সাক্ষীকে ক্ষিপ্ত বাক্যবাণে জর্জরিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প সাক্ষীকে ভয় দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। 

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্প তার সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ডেমোক্রেট নেতা জো বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনোস্কিকে টেলিফোনে চাপ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই ফোনালাপের তথ্য হাতে পেয়েছে বলে দাবি করেছে।

জো বাইডেনের ছেলে ইউক্রেনের গ্যাস কোম্পানি বুরিসমায় এক সময় কাজ করতেন। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক এক কর্মকর্তা জিলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ফোনালাপ ফাঁস করে দেন। এতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

এর ভিত্তিতে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন তদন্তের ঘোষণা দেয়।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির সামনে অভিশংসন তদন্তের প্রকাশ্য শুনানি শুরু হয়। এরপর শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) হয় দ্বিতীয় দফার শুনানি। এতে সাক্ষ্য দেন ইউক্রেনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মেরি ইউভানোভিচ। ইউক্রেনে নিযুক্ত থাকার সময় কিভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এবং কিভাবে ট্রাম্প প্রশাসন হঠাৎ করেই চলতি বছরের শুরুতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় শুনানিতে সেই বর্ণনা দেন ইউভানোভিচ।

গোয়েন্দা কমিটির প্রধান ট্রাম্পের ওই টুইটের বিষয়ে ইউভানোভিচের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যেটা করার চেষ্টা করছেন আমি সেটা নিয়ে কথা বলতে পারি না। কিন্তু আমার মনে হয় তিনি যেটা করছেন সেটাকে ভয় দেখানো বলা যায়।’

পরে কমিটিতে থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা বাধা দেওয়ার আরো প্রমাণ : ভয় দেখানো, সাক্ষীর জবানবন্দিতে অবৈধ প্রভাব বিস্তার। তবে তার জ্ঞানে তিনি যে কাজটি করেছে তা সত্যিকারার্থে অপরাধ। নিরপরাধ লোক এ ধরনের কাজ করবে না’।

তবে ট্রাম্প দাবি করেছন, তিনি এ মন্তব্যের মাধ্যমে মোটেও ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন না বলে মনে করেন। হোয়াইট হাউসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার কথা বলার অধিকার আছে। অন্যদের মতো আমারও মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে’।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More