রোহিঙ্গারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি

53
gb

জিবি নিউজ ২৪

উন্নয়নের জন্য শান্তি এবং সমপ্রীতি বজায় রাখাটা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সমপ্রদায়কে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্যাতনের  মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা নাগরিক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এ অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব সমপ্রদায়কে বিষয়টি অনুধাবন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর  হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস) এবং ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে তিনদিন ব্যাপী এই ডায়ালগের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন  দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক। সমুদ্রসীমা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ মনে করে, পরস্পরের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা বা ‘জিরো-সাম  গেম’ বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরের ‘নীল অর্থনীতি’ বিকাশের জন্য সহায়ক নয়। বরং তা এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক।              প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আরো মনে করি, সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও এর মাধ্যমে ‘নীল অর্থনীতির’ টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোর মধ্যে সহায়তাপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমতাপূর্ণ সম্পর্ক আবশ্যক। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সর্বদা বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক  জোরদারে সচেষ্ট। বাংলাদেশ তার দুই প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছে। সমস্যা সমাধানে আমাদের এরূপ সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা অন্য অঞ্চলের জন্য শিক্ষনীয় হতে পারে। প্রতিবেশির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্র নীতি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পদাংক- ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ মেনে চলছে, বলেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. সামির স্মরন এবং বিস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা ও পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় জলদস্যুতা, সশস্ত্র ডাকাতি, উপকূলবর্তী ও সামুদ্রিক এলাকায় সন্ত্রাসী আক্রমণ, মানবপাচার, অস্ত্র ও মাদক পাচার- এর মত অপ্রথাগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসনে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, কোন একক দেশের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, মাছসহ সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ও নানাবিধ দূষণ এই এলাকার সামুদ্রিক পরিবেশকে বিপন্ন করে তুলেছে। শুধু বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর নয়, বিশ্বের সকল সাগর-মহাসাগরই আজ এ ধরনের বহুবিধ সমস্যায় আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বিশ্বের সাগর-মহাসাগরগুলোতে যোগ হচ্ছে ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য। দূষণ ও সামুদ্রিক সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানকে বিনষ্ট করছে। পৃথিবীর সামগ্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেমনিভাবে ‘ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগ-২০১৯’ পরিবেশবান্ধব শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথে এই অঞ্চলের দেশগুলোর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। 
এই অঞ্চলের দেশগুলোর ‘কমন এনিমি’ হিসেবে দারিদ্রকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য আমাদের প্রধান শত্রু। কাজেই আমাদের সকল কাজের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের দারিদ্র্য দূর করে তাদের সুন্দর এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন নিশ্চিত করা। জলবায়ু পরিবর্তনে তেমন কোন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে এর প্রভাবে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকার প্রধান বলেন, এরফলে সৃষ্ট বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদী ভাঙ্গনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হয়। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত মহাসাগরকে ঘিরে মোট ৪০টি উন্নয়নশীল দেশের অবস্থান। সেখানে বাস করে বিশ্বের জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ। বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে আছে ৬টি দেশ। আরও কয়েকটি দেশ যেমন: নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যদিও বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত নয়, তবুও তাদের অর্থনীতিতে বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী ও নির্ভরশীল  দেশগুলোর অর্থনীতি ও তাদের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন এই সাগর ও মহাসাগর দ্বারা নানাভাবে প্রভাবিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সাগর ও মহাসাগরের সম্পদ, পরিবেশ, বাস্তুসংস্থান সরাসরি এই দেশগুলোর অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More