সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কিশোরী মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটে যুবক পল্লবের নেতৃত্বে ৫টি বসতবাড়ি ও ৩টি রাস মন্দির ভাংচুর, আহত-৭

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কিশোরী মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটে যুবক পল্লবের নেতৃত্বে ৫টি বসতবাড়ি ও ৩টি রাস মন্দির ভাংচুর ও  লুটপাট ঘটনায় ৭ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। 

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি একটি প্রেম ঘটিত কারণ বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পল্লব মন্ডল ও পুজা মন্ডল দুজনেই মুন্সিগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি-এর প্রথম বর্ষে পড়ে, উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। 

হামলার শিকার সুভাষ বাউলিয়ার স্ত্রী পূর্ণিমা বাউলিয়া বলেন, উত্তর কদমতলা ফুলতলা এলাকার শ্রীপদ মন্ডলের ছেলে পল্লব মন্ডল (১৯) এই ঘটনা ঘটায়। প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে পল্লব ও এক মেয়ে (পুজা মন্ডল-১৭) কে বিলের ভীতরে সুভাষ বাঊলিয়ার ছেলে মিলন বাঊলিয়া (১৮)সহ কয়েক জন তাদেরকে ধরে ফেলে এবং পরবর্তীতে মীমাংসা হয়ে যায় । কিন্তু ওই ঘটনার রেশ ধরে কিন্তু ওই ঘটনার রেশ ধরে পল্লব নেতৃত্বে ১৫-২০ টি মটর সাইকেল ও দুটি পিকআপযোগে বংশীপুর এলাকা হতে ৬০-৭০ উঠতি বয়সী তরুন ফুলতলা গ্রামে হামলা করে। 

হামলার শিকার সুভাষ বাউলিয়া জানান, আমরা ভয়ে পলাই তখন আমাদের না পেয়ে আমাদের দুই মেয়ে বিজুলী ও মমতা কে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য হাত ধরে টেনে ঘরের বাইরে বের করতে থাকে তখন ছোট মেয়ে চিৎকার করলে ওর বাবা, দাদা,কাকারা আর পালিয়ে না থাকতে পেরে বেরিয়ে আসে আর তখনই ইট ছুড়ে মারতে থাকে এবং তার দলবল ঘরে থাকা টিভি, ল্যাপটপ, মোবাইল ও মোটর সাইকেল নিয়ে যায়। 

তিনি আরও জানান, পল্লব মন্ডলের দরবল ঘর পুড়িয়ে দেয়ার জন্য আগুন জ্বালিয়ে দেয়, আর কিছু লোক তাদের তাড়া করে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করে।

আহতরা হলেন মৃত ফণীন্দ্র বাউলিয়া ছেলে নগেন্দ্রনাথ বাউলিয়া (৭০), তপন বাউলিয়া (৬০), নগেন্দ্র নাথ বাউলিয়ার তিন ছেলে সুভাষ বাউলিয়া (৫০), যতিন বাউলিয়া (৪০), গোবিন্দ বাউলিয়া (৪৫),যতিন বাউলিয়ার স্ত্রী কৌশল্যা বাউলিয়া (৩৫) , সুভাষ বাউলিয়ার স্ত্রী পূর্ণিমা বাউলিয়া(৪৫), কন্যা মমতা বাউলিয়া (১৮),ছেলে মিলন বাউলিয়া ( ১৯) যতিন্দ্র বাউলিয়া কন্যা বিজলী বাউলিয়া (১১), গোবিন্দ বাউলিয়া ছেলে নিত্যানন্দ বাউলিয়া (১৬) আহত হয়েছে। 

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা জানান, ঘটনা শুনে সেখানে যায়। এ-ঘটনায় তিনটি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর ও ৭ জন আহত হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে এবং  হামলার সাথে জড়িতদের চিহ্নত করে দ্রুত আইনের আওতায় নেয়ার ব্যবস্থা চলছে। 

 

gbn

মন্তব্যসমূহ (০)


ব্রেকিং নিউজ

লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন