সম্রাটের গডফাদার মদদদাতাদের খুঁজছে র‌্যাব

36
gb

জিবি নিউজ ২৪

ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের গডফাদার ও মদদদাতাদের খোঁজা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার র‌্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম

সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আমরা প্রথম ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করেছিলাম। ইতোমধ্যে ১৮ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত কিছু ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। গত রবিবার স¤্রাটকে গ্রেপ্তার করেছি, তার ছয় মাসের জেল হয়েছে। এখন আলোচনা হচ্ছেÑ কে তার গডফাদার, কারা তার মদদদাতা।
এক প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, স¤্রাটের অবৈধ অর্থের উৎস কোথায়, ক্যাসিনোর টাকা কোথায় যেত, বিদেশে অর্থপাচার হতো কিনা, তা খোঁজা হবে। আমরা খুব অল্প সময় স¤্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পেয়েছিলাম। তাকে পুরোপুরি জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পেলে এসব জানার চেষ্টা করা হবে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় রিমান্ড চাওয়া হবে। বিদেশে অর্থপাচার মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ। এটা আমাদের অন্যান্য সংস্থা সাধারণত তদন্ত করে। তবে আমাদের কাছে স¤্রাটের অর্থপাচারের ব্যাপারে কিছু তথ্য-উপাত্ত রয়েছে। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করব। মানিলন্ডারিং নিয়ে র‌্যাব তথ্যগত সহযোগিতা করবে।
এদিকে গতকাল সম্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। বিকাল ৪টার দিকে র‌্যাব ১-এর ডিএডি আবদুল খালেক রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দুটি করেন। এর মধ্যে মাদক মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, স¤্রাটের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়েছে। মাদক মামলায় এনামুল হক আরমানও আসামি। অস্ত্র মামলা শুধুই স¤্রাটের বিরুদ্ধে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলার সপক্ষে আলামত হস্তান্তর করা হয়েছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত রবিবার ভোরে স¤্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পর স¤্র্রাটকে নিয়ে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ক্যাঙ্গারুর দুটি চামড়া পাওয়া যায়। এ ঘটনায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সম্রাটকে ছয় মাসের কারাদ- দেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারের সময় মদ্যপ থাকায় সম্রাট ও আরমানকে আরও ছয় মাস করে কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্রাটকে বর্তমানে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। রবিবার রাত সোয়া আটটার দিকে তাকে কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আরমান বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে সম্রাটের বিরুদ্ধে দুই মামলায় ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে রমনা থানাপুলিশ। আরমানের বিরুদ্ধে চাওয়া হয় ১০ দিনের রিমান্ড। গতকাল রাতে মহানগর হাকিম ইয়াসমিন আরার আদালত আগামীকাল বুধবার রিমান্ডের শুনানির দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে সম্রাটকে ওই দিন আদালতে হাজিরের নির্দেশও দেন তিনি।

gb
মন্তব্য
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More