২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্পে বিরুপ প্রভাব

3,055
gb

                                                                                 ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্পে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে
                                          সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন \ বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বসে পড়ার আশংকা
এম শাহীন গোলদার,সাতক্ষীরা ||
সাতক্ষীরার তালায় পুলিশ সার্জেন্ট পরিচয়ে অবৈধভাবে আচিমতলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদ থেকে বালু উত্তোলন করছেন উপজেলার লালচন্দ্রপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম শেখ। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই চলছে দির্ঘ মেয়াদী বালু উত্তোলনের কাজ। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বসে পড়ার আশংকার পাশাপাশি সর্বশেষ সরকারের ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন প্রকল্পে বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলে সচেতন মহলের অভিমত।
কপোতাক্ষ নদের সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের আচিমতলা এলাকা থেকে সরকারি অনুমোদন না নিয়েই বালু উত্তোলন করছেন ঐ এলাকার লাল চন্দ্র পুরের মৃত মাহাতাব উদ্দীনের ছেলে নূরুল ইসলাম শেখ। স্থানীয়দের অভিযোগের যানা যায়, যশোরের কেশবপুরের বাউশোলা গ্রামের জনৈক শফিকুল ইসলাম নামের এক ঠিকাদারকে প্রতি ঘণ ফুট ৩ টাকা চুক্তিতে নূরুল ইসলাম তার নিচু জমিতে বালু উত্তোলন করে উঁচু করছেন।
ওই ঠিকাদার বলেন,গত প্রায় ১০ দিন ধরে তারা সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছেন। কথা হয় সেখানে উপস্থিত জমি মালিক নূরুল ইসলাম বলেন, তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, আমি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছি বিষয়টি আমার জানা নেই। স্থানীয় সরুলিয়া ইউনিয়ন তহশীলদার তারক চন্দ্র মন্ডল বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য বলেছি।
এদিকে সাংবাদিকরা বালু উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহে ঘটনাস্থলে গেলে ওই পুলিশ সাজের্ন্টের বাবা নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নানা আস্ফোলন করে বলেন, আমার ছেলে যশোরের সার্জেন্ট মনিরুল সব কিছু সেই মিটিয়ে ফেলবেন। উল্লেখ্য, এক কালের ¯্রােতসীনি কপোতাক্ষ নদ নব্যতা হারিয়ে বিগত কয়েক বছর যাবৎ দক্ষিনা-পশ্চিমা লের ৩ টি জেলার ৯টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা র প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর দাবীর মুখে সরকার ২০১১ সালে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ নদ খননের কার্যক্রম শুরু করে। এমন অবস্থায় সেখান থেকে বালু উত্তোলন গোটা প্রকল্পকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে বলে মনে করছেন নদ বিশেষজ্ঞরা।
সরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, আমি চৌকিদার পাঠিয়েছিলাম তারা বলেছে সাতক্ষীরা থেকে অনুমতি নিয়েছি।
কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম বলেন, অত্র এলাকার ভুক্তভোগী মানুষের ফসল এই নদী খননকে কেউ ব্যক্তি স্বার্থে নস্যাৎ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর গোষ¦ামী বলেন, আমি কোন অভিযোগ পাইনি, এরকম কেউ করলে তা অবৈধ, অব্যশই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ হোসেন বলেন,বালু উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এব্যাপারে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন ।