ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে মঙ্গলবার এক ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

বরিস জনসন

125
gb

জিবি নিউজ ডেস্ক ||

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট নিয়ে মঙ্গলবার এক ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এর ফলে বুধবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধী এমপিরা। এখন তাদের জন্য চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট ঠেকাতে একটি বিল আনার সুযোগও তৈরি হলো। তবে ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস জনসন বলেছেন, তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন।

‘নো ডিল ব্রেক্সিট’, অর্থাৎ কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টায় ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ২১ জন এমপি শামিল হয়েছেন বিরোধী দলের কাতারে। আর এই বিদ্রোহের ফলেই ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটিতে হেরে গেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

আগামী ৩১ অক্টোবর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ, যেটি ব্রেক্সিট হিসেবে পরিচিত তা কার্যকর হওয়ার কথা। কীভাবে, কোন চুক্তিতে সেই বিচ্ছেদ হবে, এ নিয়েই চলছে এখন আলোচনা। তবে এই বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, নির্ধারিত তারিখেই ব্রেক্সিট কার্যকর করার ব্যাপারে অনড় থাকার কথা বলেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই বেশ উত্তপ্ত যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মধ্যে ছুটি শেষে মঙ্গলবার বৈঠকে বসে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট।

আগেই এক সভায় বরিস জনসন জানিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে নিজ দলের যারা বিরোধিতা করবেন, তাদের বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু বরিস সরকারের ব্রেক্সিট নীতির বিরোধীরা মঙ্গলবার পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলেন, যাতে ব্রেক্সিট আরও পিছিয়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করে একটি বিচ্ছেদ চুক্তি চূড়ান্ত করার সময় পাওয়া যায়। তারই ধারবাহিকতায় বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিদ্রোহী এমপিদের কাছে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ কমন্সে’ ৩২৮-৩০১ ভোটে হেরে যান বরিস। তিনি নিজ দলের ২১ জন এমপি, যাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও আছেন, তারা এই ভোটাভুটিতে সরকারকে হারাতে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

মঙ্গলবারের এই ভোটে জয়ের ফলে বুধবার পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ পেলেন বিরোধী ও বিদ্রোহী এমপিরা। এই ভোটের ফলে চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের বিরোধীরা ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে পার্লামেন্টে বিল আনতে পারবেন।

ভোটের পর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, যেসব টোরি এমপি বিদ্রোহ করেছেন, তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হবে। বরিস জনসন বলেছেন, তিনি আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনবেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের আশা, বহিষ্কার হুমকি ও আগাম নির্বাচনের কথায় বিদ্রোহী এমপিরা হয়তো অবস্থান বদলাবেন। তিনি বলেছেন, অক্টোবরে নির্বাচনের প্রচেষ্টা চালানো ছাড়া তার কিছু করার নেই। কারণ তিনি বলছেন, দেশের জনগণকেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এটি তার জন্য খুব একটা সহজ হবে না। কারণ যুক্তরাজ্যে ২০১১ সালের একটি আইনে পার্লামেন্টকে পাঁচ বছরের মেয়াদ দেয়া হয়েছে। এখন সেটি পরিবর্তন করতে হলে পার্লামেন্টে বরিস জনসনের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে। এটি পেতে হলে তার বিরোধী দল লেবার পার্টির সমর্থন দরকার হবে। সেটি বরিসের জন্য খুব একটা সহজ হবে না।

এখন প্রশ্ন, এমপিরা যদি চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে বিল এনে সেটি পাস করাতে সক্ষম হয়, তাহলে কী হবে? ভোটের ফলের কারণে এমপিরা হাউস অফ কমন্স নিয়ন্ত্রণ করবেন। এর ফলে তারা ব্রেক্সিট ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিলম্বিত করার প্রস্তাব দিতে প্রধানমন্ত্রীকে বাধ্য করতে বিল আনার সুযোগ পাবেন। তবে সেটি তখনই ঘটবে, যদি এমপিরা ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিটের জন্য একটি নতুন চুক্তি অনুমোদন বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট না দেন। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার ১৫ অক্টোবর একটি সাধারণ নির্বাচন করতে চায়। তার দুদিন পরই ব্রাসেলসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আর নেই। তিনি মন্তব্য করেন, ভোটাভুটি হওয়ার আগেই এই বিল পাস হওয়া উচিত ছিল। এখন পর্যন্ত ২১ জন টোরি এমপি, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীও রয়েছেন, তারা সরকারকে হারাতে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তবে বিরোধীদের এখন দাবি, ‘নো ডিল ব্রেক্সিট’ বা চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট যেন না হয়, সেটি আগে নিশ্চিত করা, তারপর যত দ্রম্নত সম্ভব সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি।

সংবাদসূত্র : বিবিসি

gb

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More